আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ৮ নভেম্বর: যাত্রী বোঝাই বাসের মধ্যে ধূমপানের প্রতিবাদ করায় বেধড়ক মার খেলেন এক পুলিশ কর্মী। নানুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার পর নানুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আক্রান্ত পুলিশ কর্মী। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করায় হতাশ ওই পুলিশ কর্মী।
জানা গিয়েছে, জখম পুলিশ কর্মীর নাম মহম্মদ শাহজাহান। তাঁর বাড়ি নানুর থানার বালিগুনি গ্রামে। তবে তিনি সদাইপুর থানায় এনভিএফ পদে কর্মরত। বোলপুর হাসপাতালে তাঁর এক আত্মীয় ভর্তি ছিলেন। সেই আত্মীয়কে দেখে রবিবার দুপুরে বোলপুর-কাটোয়া বাস ধরে নানুরের বাড়িতে ফিরছিলেন। ওই বাসে চার যুবক অস্বভাবিক অবস্থায় যাত্রী সেজে ওঠে। মোহনপুর গ্রামের কাছে তারা যাত্রী বোঝাই বাসের মধ্যেই ধুমপান শুরু করে। প্রথমে তাতে আপত্তি জানান বাসের মহিলা যাত্রীরা। কিন্তু মহিলাদের আপত্তিতে গুরুত্ব না দেওয়ায় এগিয়ে গিয়ে প্রতিবাদ করেন পুলিশ কর্মী মহম্মদ শাহজাহান। সেই সময় চলন্ত বাসের মধ্যেই তাকে চারজন মিলে অমানুষিক মারধর করে। তাঁর চশমা, মোবাইল ও হেডফোন ভেঙ্গে দেওয়া হয়। পুলিশ কর্মী পরিচয় দেওয়ায় মারধরের মাত্রা বেড়ে যায়। এরপরেই অভিযুক্তরা বাস থেকে নেমে পালিয়ে যায়। অভিযুক্ত চার যুবক নানুরের সাওতা গ্রামের বলে জানা গিয়েছে।
কিন্তু পুলিশ এখনও তাদের গ্রেফতার না করায় হতাশ মহম্মদ শাহজাহান বলেন, “সরকার প্রকাশ্যে ধূমপানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যাত্রী বোঝাই বাসের মধ্যে ওরা ধূমপান করছিল। মহিলারা প্রতিবাদ করলে তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে মুখ বন্ধ করে দেয়। আমি একজন পুলিশ কর্মী হয়ে চুপ করে থাকতে পারিনি। তাই প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলাম। পরিণামে মিলল মারধর। থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। কিন্তু এখনও তার বিচার পেলাম না। এখনও অভিযুক্তরা ধরা পড়ল না”।

