পিন্টু কুন্ডু, আমাদের ভারত, বালুরঘাট, ২০ এপ্রিল: পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে নেওয়া সরকারি সিদ্ধান্তকে না মানবার অভিযোগ এবারে খোদ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, দলীয় কার্যালয়ে ডেকে একাংশ কাউন্সিলরদের ফতোয়া জারি করে চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল থেকে নামও প্রত্যাহার করে নেবার চাপও তিনি দিয়েছেন বলে অভিযোগ। যাকে ঘিরে কিছুটা কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি উজ্জ্বল বসাক। পুরসভার সরকারি সিদ্ধান্ত কিভাবে দলীয় কার্যালয়ে বসে জেলা সভাপতি নিচ্ছেন সেই প্রশ্ন উস্কে নিন্দার ঝড় উঠেছে গোটা বালুরঘাট শহরজুড়ে। বুধবার এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় বালুরঘাটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামতে হয় পুলিশকেও।
তৃণমূল পরিচালিত বালুরঘাট পৌরসভায় চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান গঠনের পর মঙ্গলবার প্রথম বোর্ড মিটিংয়ের ডাক দেন চেয়ারম্যান। যেখানে শহর উন্নয়নের ৫৪ টি বিষয় আলোচনার পাশাপাশি ঘোষণা করা হয় চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের তিন সদস্যর নাম। শিখা মহন্ত সাহা চৌধুরী, সুরজিত সাহা ও নীতা নন্দীর নাম ওই মিটিংয়ে চেয়ারম্যানের ঘোষণার পরেই হাততালি দিয়ে তা সমর্থন জানায় তৃণমূলের ২৩ জন কাউন্সিলর সহ বিরোধী ২ কাউন্সিলরও। দলের নির্দেশ মেনে খামবন্দি প্যাকেট খুলে সেই তিন সদস্যের নাম ঘোষণা করেছেন বলেও জানিয়েছিলেন চেয়ারম্যান অশোক মিত্র। ওই দিন যাদের তিনজনকেই পুরসভা থেকে নিয়োগপত্র দিয়েছেন চেয়ারম্যান। এর পরেই কিছুটা যেন ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি উজ্জ্বল বসাক। তার দাবি, এক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্ত মানা হয়নি। তবে কিভাবে ওই খামবন্দি প্যাকেটে তিনজনের নাম এল? দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কারাই বা সেটা চেয়ারম্যানকে দিল? যার কোনো সদুত্তর সাংবাদিকদের দিতে পারেননি খোদ জেলা তৃণমূল সভাপতি।

এদিকে এদিন বিকেলে শহরের ২৩ জন কাউন্সিলরকে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে একটি জরুরি বৈঠকের ডাক দেন উজ্জ্বল বাবু। রুদ্ধদ্বার দীর্ঘ কয়েক ঘন্টার বৈঠকে তুমুল হইচই পরিস্থিতি তৈরি হয় সেখানে। এর পরেই কিছু কাউন্সিলর তৃণমূল সভাপতির বিরুদ্ধে কিছুটা ক্ষোভ উগরে বাইরে বেরিয়ে যান। যদিও সে প্রসঙ্গে নেতৃত্বদের দাবি, সভা শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা বেরিয়ে গেছে। এরপরেই একটি সাংবাদিক বৈঠক করে জেলা তৃণমূল সভাপতি জানিয়েছেন, বোর্ড মিটিং এ ঘোষিত চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলর হিসাবে যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে সেটা ভুল বোঝাবুঝির কারণেই হয়েছে। যাকে ঘিরে হাসির রোল পড়েছে বিরোধী শিবিরে। কেননা পুর আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান তার কাজের সুবিধার্থে বোর্ড মিটিং ডেকে তার পছন্দের কাউন্সিলরদের অন্তর্ভুক্ত করেন চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলে। সেই আইন মোতাবেক বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র বোর্ড মিটিং এ সর্বসন্মতিক্রমে তিনজনের নাম পাশ করেন। সভা শেষে যাদের নিয়োগপত্রও দিয়েছেন তিনি। তারপরে কিভাবে তৃণমূল কার্যালয়ে বসে সেই সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারেন জেলা তৃণমূল সভাপতি তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন? তবে কি তিনি চেয়ারম্যানকে অবমাননা করে তার ঘনিষ্ঠ কাউকে বসাতে চাইছেন সেই চেয়ারে উঠেছে সেই প্রশ্নও।
যদিও জেলা তৃণমূল সভাপতি উজ্জ্বল বসাকের বক্তব্য, ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এমনটা হয়েছে। দলের মিটিং ডেকে আলোচনা করে সেই সদস্যদের নাম বদলানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

