মূল্যবান মোবাইল ফিরিয়ে মনুষ্যত্বকে জিইয়ে রাখলেন পুরুলিয়ার টোটো চালক রাজ কিরণ

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২০ এপ্রিল: মূল্যবান মোবাইল কুড়িয়ে পেয়ে মালিকের হাতে তুলে মনুষ্যত্বকে জিইয়ে রাখলেন পুরুলিয়ার টোটো চালক রাজ কিরণ সিং।

যুবক রাজ কিরণ সিং, পেশায় একজন টোটো চালক। পুরুলিয়া পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দুলমী দুর্গা মন্দিরের পাশে বাড়ি। পেটের টানে সকাল থেকে রাত অবধি সওয়ারি বহন করেন তাঁর টোটোতে। নানা রকম সওয়ারির মুখোমুখি হন প্রতিদিন। এঁদের বেশির ভাগই নাক উঁচু। ভালো ব্যবহার আশা করা তো দূর অস্ত, নির্দিষ্ট জায়গার একটু আগে পিছে নামালেই চড়া গলায় কথা শুনতে হয়। কিছু মানুষ ব্যতিক্রম হয় অবশ্য। উপার্জনের কথা ভেবে মুখ বুজে সহ্য করে ফের গন্তব্যের দিকে রওনা দেন রাজ কিরণ।

পুরুলিয়া শহরের বাসিন্দা পবন শর্মা তাঁর মোবাইল রাত ৯ টা নাগাদ বাস স্ট্যান্ডের কাছে পকেট থেকে পড়ে যায়। উনি বুঝতেই পারেননি। ওই অবস্থায় বাড়ি ফিরে যান তিনি। রাস্তায় পড়ে থাকা মোবাইল টোটো চালক রাজ কিরণ কুড়িয়ে পান। তৎপরতা নিয়ে ওই মোবাইল থেকে নম্বর নিয়ে পবনবাবুর বাড়ির লোকদের ফোন করেন কিরণ। পবন বাবু কিরণের ফোন পেয়ে বাস স্ট্যান্ডের কাছে ফেরৎ করে দেন।পবন শর্মা পুরস্কার স্বরূপ কিছু টাকা দিতে গেলে তা নিতে অস্বীকার করেন ওই টোটো চালক। তিনি বলেন, “আমি গরিব হতে পারি কিন্তু ছোটো হতে পারব না। টোটো চালিয়ে উপার্জন করে সংসার চলছে। অসুবিধে হলে পরে অবশ্যই জানাবো। কিন্তু আমি কোনো উপহার নেবো না।”

জানা গিয়েছে ছোট বাড়িতে তিন বছরের মেয়ে, স্ত্রী আর মা রয়েছেন। দিনভর রোদ গরম মাথায় নিয়ে কোনও ভাবে সংসার চলে তাঁর। অভাব থাকলেও কুড়িয়ে পাওয়া মোবাইল মালিকের হাতে তুলে দেওয়াটা তাঁর কর্তব্য বলে মনে করেন তিনি। এর বিনিময়ে কোনো অর্থ উপহার নয়, আশীর্বাদই তাঁর পাথেয় বলে মনে করেন কিরণ।

এই খবর পেয়ে পুরুলিয়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রদীপ ডাগা বলেন, ‘এই সততাকে নমস্কার জানাই। আমি মনে করি এই ধরনের লোকদের সমাজে পুরস্কৃত করা উচিত।”

আর এই মনের মানুষকে বুকে জড়িয়ে আপ্লুত পেশায় ব্যবসায়ী পবন শর্মা। তাঁর কথায়, “মনকে খুব কাছ থেকে ছুঁয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তা আমার মনকে আনন্দিত করে তুলেছে। এতো আর্থিক অনটন থাকা সত্বেও একটি মানবিক মূল্যবোধকে শিখরে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর কথা, ব্যবহার হৃদয়ে থাকবে। সমাজে এই রকম মানুষের বড়ই অভাব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *