আমাদের ভারত, ২০ এপ্রিল: বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের উদ্বোধনের দিন সিঙ্গুরে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায় সিঙ্গুর শিল্পের বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে।
বুধবার থেকে দুদিনের বাণিজ্য সম্মেলন শুরু হয়েছে আর তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেইদিনই সিঙ্গুরে যান সুকান্ত মজুমদার। অন্যদিকে দলীয় বিধায়কদের নিয়ে দেউচা পাচামি যান রাজ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে তৃণমূল সরকারের উদ্যোগে বাণিজ্য সম্মেলনের সময় এই কর্মসূচি পালন করে বড় বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে বিজেপি।
বুধবার সিঙ্গুরে খাসের ভেরি এলাকা পরিদর্শনে যান সুকান্ত মজুমদার। সেখানে গিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কটাক্ষের সুরে বলেন, “২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার আগে এই এলাকাকে উনি শিল্পের বধ্যভূমিতে পরিণত করেছিলেন। তারপর উনি বলেছিলেন, কাশফুল থেকে লেপ, বালিশ তৈরি করার কথা। সেই সব কিছু হয়েছে কিনা তা দেখতে আমরা এখানে এসেছিলাম। দেখলাম সেসব কিছুই হয়নি। কতগুলি ভেরি হয়েছে দেখলাম। এতে মাননীয় বিধায়ক বেচারাম মান্নার অনুপ্রেরণা ও মুখ্য মন্ত্রীর অনুপ্রেরণা হয়তো আছে।”
এদিন দেউচা পাঁচামি প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “দেউচা পাঁচামিতে কারও জমি জোর করে নেওয়া যাবে না। এটা মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত নীতি। আদিবাসীদের জমি জোর করে নেওয়া যায় না। যে প্যাকেজের কথা মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন তা আগে দিতে হবে। তারপর জমি নিতে হবে। তাঁর অভিযোগ, দেউচা পাঁচামির আদিবাসীদের উৎখাত করে পাথর লুঠের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বড় বড় টাইকুনদের হাতে এই জমি তুলে দেওয়াই আসল উদ্দেশ্য।
একই সঙ্গে সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। সিন্ডিকেট রাজ এবং শাসকদলের দাদাগিরি বন্ধ না হলে এই রাজ্যে শিল্পায়ন হবে না। কিভাবে শিল্প হবে তা রাজ্য সরকারকে ভাবতে হবে। আমাদের মানুষ দায়িত্ব দেয়নি। আমরা দায়িত্ব পেলে আমাদের মত করে শিল্পনীতি তৈরি করব।
আজ সিঙ্গুরের শিল্প স্থাপন নিয়ে বিজেপির পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেছেন সুকান্ত। তাঁর কথায়, “আমরা সকলেই শিল্পের জন্য চেষ্টা করব। তবে রাজ্য সরকার জমির মালিক। আমরা সাহায্য করতে প্রস্তুত। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী যদি ভাবেন সবই তিনি বোঝেন, তাহলে ওই রকমই হবে। বিজেপি সরকারের সময় কৃষকরা শিল্প করতে চাইলে আমরা ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে শিল্প করে দেখাবো। আমি নিজে শিল্পপতি ডেকে আনবো, তেমন বিনিয়োগকারী আছেন।
সুকান্তর এই বক্তব্যের পাল্টা দিতে গিয়ে রাজ্যের শ্রমমন্ত্রীর বেচারাম মান্না বলেন, “সুকান্ত মজুমদার রাজনীতিতে শিশু। যখন সিঙ্গুর আন্দোলন শুরু হয় তখন উনি হয়ত রাজনীতিতে আসেননি। সিঙ্গুর আন্দোলনের মুখ্য বিষয় ছিল তিন ফসলি জমিতে শিল্প করা যাবে না। আমরা সেই দাবিতে অনড় ছিলাম। সুপ্রিমকোর্ট সেই দাবিকে মান্যতা দিয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, যে রাজনৈতিক দল সিঙ্গুর নিয়ে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে তারাই রসাতলে চলে গিয়েছে। সুকান্ত মজুমদার যেখানে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করেন তার আশেপাশের জমি পেট্রলপাম্প ও কারখানার জন্য কিনে রাখা আছে। বাকিটায় কৃষকরা চাষ করছেন। সেটা না দেখতে পেলে ওর পাওয়ারফুল চশমা ব্যবহার করা উচিত। আর বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে যেভাবে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এসেছেন তাতে সুকান্ত মজুমদারের জীবদ্দশায় আর বিজেপির এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসা হবে না।”

