স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২৬ জুলাই: শান্তিপুর মিউনিসিপ্যাল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগের ৪৩২ জন ছাত্রছাত্রীর পঠনপাঠন চলছে মাত্র তিনটি ঘরে। দীর্ঘদিন এ বিষয়ে নানান প্রশাসনিক দপ্তরে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে অভিযোগ, তাই বাধ্য হয়ে আজ বিধায়কের শরণাপন্ন হলেন অভিভাবকরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানাগেছে, পঠন পাঠনের সুখ্যাতিতে অন্যান্য বিদ্যালয়ের থেকে এই বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি। উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি ঘর ব্যবহার করা হতো করোনা পরিস্থিতি আগে। কিন্তু করোনা পরবর্তী সময়ে ওই ঘর দুটি না দেওয়ার ফলে আরো সমস্যা বেড়েছে। অভিভাবকরা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে আর্থিক কারণে তাদের ছেলে মেয়েকে প্রাথমিক বিভাগে ভর্তি করিয়েছেন। অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষা দপ্তর নানান ব্যবস্থা নিচ্ছেন স্কুল ছুট পড়ুয়াদের স্কুলে ফেরাতে। সেখানে এতদিন স্কুল বন্ধের পর যদিও বা স্কুল খুলেছে, তা হলেও একদিনে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পঠন-পাঠনের অসুবিধার কারণে চারটি শ্রেণির মধ্যে দুটি শ্রেণির ক্লাস চললেও বাকিদের ছুটি দেওয়া হতো। এভাবেই পর্যায়ক্রমে চলত বিদ্যালয়। তাতেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায়, একই ঘরে দুটি শ্রেণিকে কিছু বেঞ্চে কিছু মাটিতে একসাথে বসিয়ে শুরু করা হয় পঠনপাঠন। কিন্তু সাধারণ কিছু বিষয় একসাথে পড়াশোনা করানো গেলেও সিলেবাস শেষ করানো সম্ভব হচ্ছে না। আর এভাবে পড়াশোনা করার ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎই বা কি হবে? এমন নানা প্রশ্ন নিয়েই আজ সকালে বিদ্যালয় থেকে ২ শতাধিক অভিভাবক অভিভাবিকা পৌঁছান বিধায়কের বাড়িতে। বিধায়কের দেহরক্ষীদের ব্যবহারে অসন্তুষ্ট হয়ে তারা বলেন, ভোটের সময় সকাল সন্ধ্যা ছিল না, আর এখন যেই ভোট শেষ হয়েছে আমাদের নির্বাচিত বিধায়কের কাছে পৌঁছাতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।

তবে বিদ্যালয়ের সমস্যা সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে বিধায়ক ব্রজ কিশোর গোস্বামী জানান, সাধারণ মানুষের জন্য অফিস আছে সেখানে না গিয়ে ওনারা বাড়িতে এসেছেন বলেই হয়তো দেহরক্ষীরা তাদের নিজেদের কাজ করায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতির সভাপতি কৌশিক প্রামানিকের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল, তবে আমি সাথে সাথে কথা বলেছি আগামী কাল থেকেই উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘর আগের মতই খুলে দেওয়া হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা, এ বিষয়ে জানান যে আমরা অতীতেও দরবার করেছি বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে, অনুসন্ধান পর্যন্ত হয়েছে, কিন্তু কি কারণে বিলম্ব তা জানি না। তবে বিদ্যালয়ের দোতলার ঘর স্থায়ীভাবে প্রয়োজন।

