মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি নিয়োগ না পাওয়া মেধা তালিকাভুক্ত বঞ্চিত প্রার্থীদের

আমাদের ভারত, ২৬ জুলাই: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-সহ তাঁকে খোলা চিঠি দিল ’দুর্নীতির কারণে ২০১৮ -র কলেজ সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ না পাওয়া (অ্যাড নং ১/২০১৮)মেধা তালিকাভুক্ত বঞ্চিত প্রার্থীরা’।

‘বিষয়: ২০১৮ কলেজ সার্ভিস কমিশনের অধ্যাপক নিয়োগ’— এই শিরোনামের চিঠিতে মঙ্গলবার লেখা হয়েছে, “মাননীয়া, আপনি মিডিয়া ও প্রকাশ্য জনসভায় প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্যদের চাকরির কথা বলছেন। অথচ পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন বা প্রাইমারি পর্ষদ কর্তৃক চাকরির মতো কলেজ সার্ভিস কমিশনের নিয়োগেও বিপুল দুর্নীতি করে প্রকৃত মেধাবী ও যোগ্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

আমাদের কাছে যা প্রমাণ রয়েছে, তাতে কলেজ সার্ভিসে দুর্নীতির কাছে স্কুলের দুর্নীতি অত্যন্ত সামান্য। ২০২০ সালে অধ্যাপক নিয়োগের প্যানেল প্রকাশের সময় থেকেই বহুবার চিঠি, ই-মেইলের মাধ্যমে আপনাকে সেটা জানানো হয়েছে, আপনি সবটাই অবগত আছেন।

প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় শুধুমাত্র স্কুল শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন না, তিনি একাধারে উচ্চ-শিক্ষামন্ত্রীও ছিলেন। তাই, ২০১৮-র কলেজ সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে যে দুর্নীতি হয়েছে, সেই দায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এড়াতে পারেন না। একইসঙ্গে কমিশনের চেয়ারম্যান দীপক কর, উচ্চশিক্ষা দফতর এবং কলেজ সার্ভিস কমিশনের বিভিন্ন আধিকারিক, ইন্টারভিউ বোর্ডের কিছু সদস্য (নাম আমাদের কাছে আছে) এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। যা আপনাকে বহুবার ইমেইল ও চিঠিতে জানিয়েছি আমরা। বারবার নবান্নে গিয়েও আপনার কোনও সদুত্তর পাইনি আমরা।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠের ফ্ল্যাট থেকে যে বিপুল পরিমাণ খামবন্দি টাকা উদ্ধার হয়েছে, তাতে ‘হায়ার এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট’-এর নাম জ্বলজ্বল করছে। অর্থাৎ, উচ্চশিক্ষা দপ্তর ও কলেজ সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সংঘটিত দুর্নীতির টাকা, উদ্ধারকৃত অর্থের সঙ্গে রয়েছে এটা অনুমান করা খুবই সঙ্গত।

আর কোন কোন ‘অধ্যাপিকা’ কতখানি সুবিধা পেয়েছেন, তারা প্রভাব খাটিয়ে কম যোগ্যতাসম্পন্ন কতজনকে চাকরি করিয়ে দিয়েছেন সে কথাও আপনি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে ইতিমধ্যে জেনে গেছেন। টাকার বিনিময়ে মেধা তালিকা বহির্ভূত নিয়োগ, নেতা-মন্ত্রীর আত্মীয়-পরিজন চাকরি, কম যোগ্যদের চাকরি, অধিক যোগ্যদের মেধা তালিকার পিছনে ফেলে রাখা- সবকিছু করে স্বেচ্ছাচারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রাখা হয়েছে।

নিয়োগের কোনো নিয়মকেই না মেনে, সকলকে অন্ধকারে রেখে সমগ্র প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়েছে। বঞ্চিত করা হয়েছে প্রকৃত মেধাবী, যোগ্যদের।

তাই, আপনার কাছে আমাদের দাবি-
১. অবিলম্বে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও কমিশনের চেয়ারম্যান দীপক কর-সহ এই নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত সকলকে তদন্তের আওতায় নিয়ে আসুন।
২. দুর্নীতির কারণে বঞ্চিত প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *