২০১১-১৯ এর মধ্যে দেশের অতিদরিদ্রের সংখ্যা কমেছে ১২ শতাংশের বেশি, বলছে বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্ট

আমাদের ভারত, ১৮ এপ্রিল:গরিব কমেছে ভারতে। গত এক দশকে১২.৩% দরিদ্রতা কমেছে দেশে, বলছে বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট। ফলে স্বস্তিতে মোদী সরকার। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট বলছে ২০১১ সালে যেখানে দেশের চরম দরিদ্রতার পরিমাণ ছিল ২২.৫%। ২০১৯ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১০.২ %।

দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় গোটা বিশ্বের সাথে করোনার কারণে মন্দায় ডুবেছে ভারতও। জিডিপি বৃদ্ধির হারে বড় ধাক্কা লাগে। হুহু করে বাড়তে থাকে বেকারত্ব। উদ্বেগ তৈরি হয় বাড়তে থাকা দরিদ্রতার হার নিয়ে। তবে তৃতীয় ঢেউয়ের পর থেকেই দেশে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে করোনা সংক্রমণ। সম্প্রতি দেশের দরিদ্রতার হার নিয়ে বিশ্বব্যাংকের একটি রিপোর্ট সামনে এসেছে। আর তাতে দেখা যাচ্ছে গত এক দশকে ভারতে দরিদ্রতার পরিমাণ কমেছে অনেকটাই।। ফলে স্বস্তিতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট বলছে ২০১১ সালে যেখানে দেশের চরম দরিদ্রতার পরিমাণ ছিল ২২.৫ %। ২০১৯ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১০.২% অর্থাৎ নিদারুণ দরিদ্রতার পরিমাণ ১২ শতাংশ কমেছে।

“ভারতের দরিদ্র সংখ্যা কমেছে কিন্তু যতটা ভাবা হয়েছিল ততটা নয়” এই শিরোনামে সুতীর্থ সিনহা রায় এবং রয়ভ্যান ডে উইডের করা এই সমীক্ষাটি সামনে আনে বিশ্ব ব্যাংক। সহজ কথায় সমীক্ষকদের দাবি ২০১১ সালে যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছিল সেই অনুপাতে হিসেবে আরও অনেকটাই দারিদ্রতার পরিমাণ কমার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

তবে দারিদ্রতা কমার ক্ষেত্রে শহরের তুলনায় গ্রামের সাফল্য অনেক বেশি। রিপোর্ট বলছে গ্রামীণ এলাকাতে ২০১১ সালে দারিদ্রতার পরিমাণ ছিল ২৭.৩ শতাংশ। যেটা ২০১৯ সালে এক লাফে অর্ধেকেরও বেশি কমে দাঁড়িয়েছে ১১.৬ শতাংশ। অন্যদিকে ২০১১ সালে শহরাঞ্চলে দারিদ্র্যের পরিমাণ ছিল ১৪.২ শতাংশ, সেটা কমে ৬.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।‌

অন্যদিকে ২০০৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ভারতের দারিদ্রতা কমার পরিমাণ ছিল ২.৫ শতাংশ। সেখানে ২০১১-১৮ সালের প্রতিবছর ১.৩ শতাংশ হারে দারিদ্রতার হার কমেছে গোটা দেশে। তবে গবেষণার রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সময়কালে ক্ষুদ্র কৃষকরা লাভবান হয়েছে। তাদের বার্ষিক আয়ের ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ২০১৬ সালে বিমুদ্রাকরণের জন্য দেশে দারিদ্রতার পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যায়।শহরাঞ্চলে দারিদ্রতার পরিমাণ বাড়ে ২%। এছাড়াও এই রিপোর্টে করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিতে কি প্রভাব পড়েছে তার উল্লেখ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *