স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৮ এপ্রিল: এক গৃহবধূর মৃতদেহের ময়নাতদন্তে টালবাহানা ও পুলিশি তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপালকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ মৃতার পরিবারের। শতাধিক লোকের বিক্ষোভে হুলস্থূল কান্ড বেধে যায় সোমবার মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে। প্রিন্সিপালকে ঘেরাও করার পাশাপাশি সামান্য ভাঙ্গচুর ঘটনায় রীতিমত উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

উল্লেখ্য, পণের দাবিতে রায়গঞ্জের পানিশালার বাসিন্দা অমল বর্মনের বিরুদ্ধে স্ত্রী মামণি বর্মনকে খুনের অভিযোগ ওঠে। রবিবারই মৃতদেহের ময়না তদন্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। আবার সোমবারও দুপুর হয়ে গেলেও ময়না তদন্তে টালবাহানা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে মৃতার পরিবার এবং এলাকার প্রায় শতাধিক বাসিন্দা মিলে পুলিশি নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের মর্গে হাজির হন। সেখানেই ভারপ্রাপ্ত এমএসভিপি এবং প্রিন্সিপালের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তারা। এরপর প্রিন্সিপালকে ঘেরাও করে চলে বিক্ষোভ। এরই মাঝে উত্তেজিত কয়েকজন প্রিন্সিপালের অফিসের কিছু জিনিসপত্র ভাঙ্গচুর করে বলে অভিযোগ।
এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনার সৃষ্টি হলে রায়গঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌছায়। পুলিশের উপস্থিতিতে মৃতদেহের ময়না তদন্তের জন্য আসেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট। তবে ময়না তদন্তের রিপোর্টে গড়মিল হলে এবং অভিযুক্ত স্বামী অমল বর্মনকে গ্রেফতার না করা হলে আরো বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মৃতার পরিজনেরা। যদিও পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।

মৃতার আত্মীয় অজয় বর্মন জানান, দুদিন আগে মামণি বর্মন নামে এক গৃহবধূকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মারধর করে হত্যা করেছে। এরপর দুদিন কেটে গেলেও এখনও ময়নাতদন্ত হয়নি এবং এই ঘটনায় অভিযুক্ত মৃতার স্বামীকে এখনও গ্রেফতার করেনি পুলিশ। অবিলম্বে দ্রুত ময়নাতদন্ত করতে হবে এবং দোষীকে গ্রেফতার করতে হবে না হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দলনে নামবে বলে জানান।

অন্যদিকে এই ঘটনার ব্যাপারে হাসপাতালের সহকারি সুপার অভিক মাইতি জানান, মেডিকেল চত্বরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ময়নাতদন্তের জন্য মেজিস্ট্রেট দেরিতে আসায় একটু সমস্যা তৈরি হয়েছিলো তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

