টাকার লোভ দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ উত্তরপ্রদেশে গ্রেফতার ৪ জন

আমাদের ভারত, ১৮ এপ্রিল:গত কয়েক বছর ধরেই ধর্মান্তকরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে একাধিক হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলিকে। সম্প্রতি কেন্দ্রের কাছে ধর্মান্তকরণ বিরোধী আইন আনারও দাবি জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। এর মধ্যে উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে অবৈধ ধর্মান্তকরণের অভিযোগে দুই মহিলা সহ ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় কিছু মানুষকে ভুল বুঝিয়ে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ সূত্রের খবর এই ঘটনাটি আজমগড় জেলার আন্ডাখোড় এলাকার। অন্যতম অভিযুক্তের নাম রাকেশ কুমার। সে দিল্লির বাসিন্দা হলেও অন্যরা অজয় কুমার, রিতা দেবী ও গীতা আজমগড়ের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। রাকেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ সে কয়েকমাস আগে আজমগড়ে একটি ঘর ভাড়া নেয়। সেখানে এসে সে প্রায়শই স্থানীয়দের আমন্ত্রিত জানাতো। এরপর বিভিন্নভাবে তাদের প্রভাবিত করে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করত। এমনকি ধর্মান্তরিত করতে সে টাকার প্রলোভনও দেখাতো বলে অভিযোগ।আর বাকি তিনজন এই কাজে রাকেশকে সাহায্য করত।

রাকেশ সহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বিলারিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ। বিলারিয়াগঞ্জের এসএইচও বিজয় প্রকাশ জানান, অভিযোগ পেয়ে তারা তদন্ত করেন। রাকেশ সহ অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে অভিযুক্তরা ঠিক কতজন ব্যক্তিকে ধর্মান্তরিত করেছে।

দিন কয়েক আগেই উত্তরপ্রদেশের ফতেপুর জেলার হরিহর গঞ্জ এলাকায় ধর্মান্তকরণ নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। এই ঘটনায় ধর্মান্তকরণ বিরোধী আইনে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বছর ডিসেম্বর মাসে ধর্মান্তকরণ বন্ধ করতে কেন্দ্রের কাছে নির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছিল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। কারা ধর্মান্তকরণ করছে তাদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছিল তারা। ধর্মান্তরিতদের ফের স্বধর্মে ফিরিয়ে আনতে দেশজুড়ে ঘরওয়াপসি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা বলে পরিষদ। বিশ্ব হিন্দু পরিষদে সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার সুরেন্দ্র কুমার অভিযোগ করেছিলেন, করোনার ভয়াবহ বিপর্যয়ের সময় সাধারণ মানুষের অসহায়তা ও আর্থিক দুরবস্থা সুযোগ নিয়ে খ্রিস্টান মিশনারী ও মৌলবিরা আগ্রাসীভাবে ধর্মান্তকরণের নেমে পড়ে। তিনি জানান তপশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষই অবৈধ ধর্মান্তকরণের শিকার হয়েছেন, কারণ এদেরকে বেশি করে টার্গেট করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *