হাই ভোল্টেজ নারদ মামলার পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার, জেলেই রাতযাপন নেতা-মন্ত্রীদের

রাজেন রায়, কলকাতা, ১৯ মে: নারদ মামলার শুনানি বুধবারের মতো শেষ। পরবর্তী শুনানি বৃহস্পতিবার দুপুর দুটোর সময়। ফলে বুধবার জেলেই রাত কাটাতে হচ্ছে সুব্রত, মদন, শোভন, ফিরহাদ’দের। বুধবার, আদালতে নারদ মামলার শুনানি চলে ২টো থেকে ৪টে ৩৫ মিনিট পর্যন্ত।

হেভিওয়েটদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, সিবিআইয়ের তরফে মামলাটিকে বিলম্বিত করার চেষ্টা চলছে। অভিজিত্‍ মনু সিঙ্ঘভি বলেন, ‘শীর্ষ আদালত যেখানে বলেছে দরকার না হলে কাউকে আটকে রাখা যাবে না। তাহলে কেন চার জনকে জেলে রাখা হয়েছে? এরা তো মামলায় সহযোগিতা করেছেন।’ সলিসিটর জেনেরেল তুষার মেহতা বলেন, ‘অভিযুক্তরা মামলা প্রভাবিত করছে। কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৬ ঘন্টা সিবিআই দফতরে
বসেছিলেন?’

সিঙ্ঘভি আদালতে জানান, ‘বিক্ষোভ ও মুখ্যমন্ত্রীর সিবিআই দফতরে হাজির হওয়ার জন্য করোও জামিন স্থগিত হতে পারে না।’ অন্তর্বর্তী জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ কাল দুপুর দু’টো পর্যন্ত জারি রইল।

প্রসঙ্গত, নারদ মামলায় একদিকে সিবিআই অন্যদিকে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবীদের আলাদা আলাদা আবেদনের ভিত্তিতে নারদ মামলার শুনানি শুরু হয় কলকাতা হাইকোর্টে দুপুর দু’টো থেকে।

এদিন, বুধবার চার হেভিওয়েটের জামিন-স্থগিতাদেশ পুনর্বিবেচনার শুনানিতে বিচারপতি অরিজিত্‍ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘জামিন হবে কি হবে না আমরা কেন সিদ্ধান্ত নেব? শুধু মানুষের চাপের অভিযোগ ছিল বলে স্থগিতাদেশ দিয়েছি।’

কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেছেন, ‘ভারতের ইতিহাসে এমন ঘটনা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নিজাম প্যালেসে ঢুকে তাঁকে গ্রেফতারের দাবি করেন। অভিযুক্তদের ছেড়ে দিতে বলেন। নিজাম প্যালেসে ঢুকতে চেয়েছে অনেক মানুষ। দুষ্কৃতীরা সিবিআই’য়ের আধিকারিকদের ভয় দেখিয়েছে, তাই অভিযুক্তদের মেডিক্যাল পরীক্ষা করা যায়নি। আইন মন্ত্রী মলয় ঘটক নিম্ন আদালতে দিনভর উপস্থিত ছিলেন। এর ফলে বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এরা প্রভাবশালী। আগামীদিনে কাউকে গ্রেফতার করা হলে এই পরিস্থিতি তৈরী করা বা কৌশল নেওয়া হবে। এরা বিচার ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তাই এদের ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। আমি পুনর্বিবেচনার আবেদনপত্রের কপি আজ সকালে পেয়েছি। আমায় উত্তর দেওয়ার সময় দেওয়া হোক।’

তুষার মেহতার উদ্দেশে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘চার্জশিট পেশ করা হয়ে গিয়েছে, ৪ জনকে আগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এরা মামলায় অসহযোগিতা করেছেন এই উদাহরণ আছে কি? তাহলে এই করোনাকালে এঁদের শুধু জেলে রাখার প্রয়োজন আছে কি?’

তুষার মেহতা বলেন, অভিযুক্তরা জেলে নেই, তাঁরা হাসপাতালে আছেন। ‘এই আদালত সিবিআইকে নিয়োগ করেছিল। তাদেরকেই কাজ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ন্যায্য বিচার না হয় সে চেষ্টাই করা হচ্ছে।’

এদিকে অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, ‘অভিযুক্তদের না জানিয়ে আদালতে মামলা হচ্ছে। তখন তাদের ন্যায় বিচারের কথা মনে ছিল না?’

বিচারপতি অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিকে প্রশ্ন করেন, নেতারা কর্মীদের বিক্ষোভ দেখানোর সময় কী ভূমিকায় ছিলেন’।

অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, ‘নেতারা কর্মীদের সংযত থাকতে বলেন।’ সিঙ্ঘভি বলেন, ‘সিবিআই রাজ্যের অধীনে নয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা রাজ্য পুলিশের দফতরে গিয়ে বসেছিলেন না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *