আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ৫ জুন: “জাতের নামে বজ্জাতি সব, জাত জালিয়াত খেলছ জুয়া”। এই জুয়া খেলায় ইতি টানার চেষ্টা করলেন অভিজিৎ মজুমদার। নিজের ছেলের মুখ দেখলেন মুসলিম ধর্মালম্বী পরিবার। উপনয়নে ঘটা করে হল মিলন উৎসব।
অভিজিৎ মজুমদার। রামপুরহাট পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সারদাপল্লীর বাসিন্দা। এক সময় বীমা কোম্পানির এজেন্ট ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। এরই মধ্যে তাদের সংসারে জন্ম নেয় পুত্র সন্তান। পাঁচ বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে পরপুরুষের সঙ্গে ঘর বাঁধে স্ত্রী। সে সময় দিশাহীন হয়ে পড়েন অভিজিৎ। মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকেন। সেই অবস্থায় কোনো আত্মীয়কে পাশে পায়নি অভিজিৎ। পেয়েছিল রামপুরহাট পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রেকিবকে। সেই তাঁকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে এনেছিল। স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিবাহবিচ্ছেদ থেকে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার পিছনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন আব্দুর রেকিব। তাই রবিবার রেকিব ও তাঁর স্ত্রী ওয়াহিদা রহমান মুখ দেখলেন অভিজিতের একমাত্র ছেলে অর্ণব মজুমদারের। হিন্দু শাস্ত্রমতে এদিন তারাপীঠ মন্দিরে ব্রাহ্মণ পুত্রের ভিক্ষাবাব হলেন মুসলিম ধর্মালম্বী এক দম্পত্তি।

অভিজিৎ বলেন, “আমি বিপদের সময় নিজের আত্মীয়কে পাশে পায়নি। সেই সময় ঈশ্বরের দূত হিসাবে পাশে পেয়েছিলাম আব্দুর রেকিবের পরিবারকে। তাই মাতৃহীন সন্তানের নতুন মা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি মুসলিম সম্প্রদায়ের দম্পত্তিকে। আমি মনে করি মানুষের কোনো জাত হয় না। আমি ধর্ম দেখি না। তাই আমি বৌদিকে ভাবি দেবতা”।
আব্দুর রেকিব বলেন, “আমার ছিল এক ছেলে। এখন থেকে আমার দুই ছেলে হল। আমি নতুন করে বাবা হলাম। হিন্দু শাস্ত্র মতেই ছেলের মুখ দেখলাম। জাতের নামে বজ্জাতি করে কিছু মানুষ। কিন্তু আসল হচ্ছে মানুষ”।
জানা গিয়েছে, কোনো ব্রাহ্মন সন্তানের মুখ দেখতে পারেন অব্রাহ্মণ। তাতে যদি কোনো মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষ হিন্দু মতে ব্রাহ্মণ পুত্রের মুখ দেখেন তাতে আপত্তি নেই।

