স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৭ মে:
করোনা অতিমারী ও লকডাউনের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দিনরাত এক করে কাজ করে গিয়েছে রায়গঞ্জ পুরসভা। গত বছরের পর এবছরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে করোনা সংক্রমণ। বাধ্য হয়ে প্রায় পূর্ণ লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে রায়গঞ্জ শহর এলাকায় করোনা আক্রান্ত মানুষদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিল পুরসভা। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে মমতার স্পর্শ।

উল্লেখ্য কুড়ি সালের পর দু’হাজার একুশ সালেও আরও বেশি শক্তি বাড়িয়ে সক্রিয় করোনা ভাইরাস। রায়গঞ্জ শহরের পরিস্থিতিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। প্রতিদিন এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যু মিছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে প্রথম দিন থেকেই কাজ করে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত রায়গঞ্জ পুরসভা। পুর চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস ও ভাইস চেয়ারম্যান অরিন্দম সরকারের নেতৃত্বে এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে সব ধরনের পরিষেবা দিয়ে চলেছেন বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, পুর কর্মী ও আধিকারিকেরা। নিজেদের জীবন বিপন্ন করে তারা পৌঁছে গিয়েছেন শহরের এপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। করোনা আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা, এলাকা স্যানিটাইজেশন, খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার থেকে শুরু করে রাতবিরেতে মৃতদেহ সৎকার করতে পুর সভার চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য কাউন্সিলর ও কর্মীরা পৌঁছে যাচ্ছেন শ্মশানে। এই কাজ করতে গিয়ে নিজেরা আক্রান্ত হয়েছেন করোনাতে। কিন্তু সুস্থ্য হয়ে ওঠার পরেই ফের তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এই কাজে। পাশাপাশি লকডাউনে অসহায় মানুষের পাশে সবধরনের সাহায্য, সহযোগিতা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে রায়গঞ্জ পুরসভা। এবারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে রায়গঞ্জ পুর এলাকায় কোভিড আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হল পুরসভা। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে মমতার স্পর্শ।

পুর চেয়ারম্যান সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, “রায়গঞ্জ পুরসভার ২৭টি ওয়ার্ডের মানুষ এই পরিষেবা পাবেন। সকাল, দুপুর ও রাতের খাবারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ঔষধ পৌঁছে দেওয়া হবে করোনা আক্রান্তদের বাড়িতে।” অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান অরিন্দম সরকার বলেন, “কোভিডে আক্রান্ত হয়ে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছেন। মৃত্যু হয়েছে পুরসভার কর্মীদেরও। এই পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়াতেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।

