স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২২ অক্টোবর: সাধক বামাক্ষ্যাপার বংশধরেরা দীর্ঘদিন ধরে পুজো করে আসছেন রায়গঞ্জ আদি করুণাময়ী কালী মন্দিরে। অসম, পঞ্জাব, বিহার, উত্তরপ্রদেশ সহ বিভিন্ন রাজ্য ও বিদেশ থেকেও দীপাবলীর রাতে বন্দর আদি করুণাময়ী কালীবাড়িতে কালী মায়ের পুজো দিতে আসেন ভক্তরা। রায়গঞ্জ শহরের বন্দরে এই কালীমন্দিরে দীপান্বিতার পুজোকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার ভক্তের সমাগমে পূন্যতীর্থ হয়ে ওঠে রায়গঞ্জ শহর। প্রতিবারের মত এবছরও পুরনো নিয়ম-রীতি মেনেই পুজোর আয়োজন হবে বলে জানান ঐতিহ্যবাহী বন্দর আদি করুণাময়ী কালী বাড়ির সেবাইত তথা সাধক বামাক্ষ্যাপার বংশধর মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়।
কথিত আছে আজ থেকে পাঁচশো বছর আগে পাঞ্জাব প্রদেশের এক সাধু পায়ে হেঁটে এসে উপস্থিত হন রায়গঞ্জের কুলিক নদীর তীরে অবস্থিত বন্দর ঘাটে। ঘাটের কাছেই একটি গাছের তলায় আসনে বসে সিদ্ধিলাভ করেন৷ প্রতিষ্ঠা করেন পঞ্চমুন্ড আসনের। সেই থেকে শুরু হয় এখানে মা কালীর আরাধনা। বেদীতেই পুজোর প্রচলন হয়েছিল। ১২১৬ বঙ্গাব্দে দিনাজপুরের রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই স্থানে নির্মান করেন কালী মন্দির। এরপর তারাপীঠের মহাসাধক বামাক্ষ্যাপার বংশধর জানকিনাথ চট্টোপাধ্যায় বারানসী থেকে কষ্ঠিপাথরের মা কালীর মূর্তি এনে প্রতিষ্ঠা করেন পঞ্চমুন্ড আসনে, সেটাও আজ থেকে আনুমানিক ২১২ বছর আগের কথা। সেই থেকেই ওই একই মূর্তিতে দক্ষিণা কালীর পুজো হয়ে আসছে বন্দর আদি করুণাময়ী কালী বাড়িতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই মন্দিরে কালীপুজোর রাতে মায়ের পায়ের নুপূরের শব্দ শোনা যায়। তন্ত্রমতে এখানে দেবী পূজিতা হন। কালী পুজোর রাতে এখনও পুরোনো রীতি মেনে শেয়ালের ডাক শোনার পরই পুজো শুরু হয়। শোল ও বোয়াল মাছ ভোগ দেওয়ার পাশাপাশি ছাগ বলির প্রচলন রয়েছে বন্দর আদি করুণাময়ী কালীবাড়িতে। আজও এই কালী মন্দিরে বংশপরম্পরায় পুজো করে আসছেন সাধক বামাক্ষ্যাপার বংশধরেরা। জাগ্রতা এই দেবীর মাহাত্ম্য ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা ছাড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এমনকি বিদেশেও। তাইতো দীপান্বিতা কালী পুজোর রাতে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয় রায়গঞ্জের এই বন্দর আদি করুণাময়ী কালী মন্দিরে। সারাবছরই অসংখ্য ভক্তের সমাগম হয় এই জাগ্রতা দেবীর মন্দিরে। ভক্তদের প্রণামী আর দান দিয়েই হয় দীপান্বিতার কালীপুজো। করোনা আবহ থাকায় এবারেও মন্দিরে প্রবেশের জন্য স্যানিটাইজার টানেল ও মাস্কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানান মন্দিরের সেবাইত সাধক বামাক্ষ্যাপার বর্তমান বংশধর মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়।

