পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৩১ জানুয়ারি: পঞ্চায়েতের দেওয়া শংসাপত্র নিয়ে জীবিত শ্বশুরকে মৃত বানিয়ে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠলো বৌমার বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন ব্লকের হরসুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের শান্তিরহাটি গ্রামের। ঘটনা জানতেই চোখ কপালে উঠবার জোগাড় সত্তরোর্দ্ধ আফসার সরকারের। নিজেকে জীবিত প্রমাণ করেতে প্রশাসন ও আদালতের দ্বারস্থ অসহায় ওই বৃদ্ধ। ঘটনা জানিয়ে অভিযুক্ত বৌমা বাবলি বিবি সহ মোট আট জনের নামে তপন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বৃদ্ধের স্ত্রী মর্জিনা বিবি। অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্তে নেমেছে তপন থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, তপনের হরসুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের শান্তিরহাটি এলাকার বাসিন্দা পেশায় কৃষক আফসার সরকার। প্রায় আট বিঘা আবাদি জমি রয়েছে তাঁর নামে। কৃষিকাজ করেই তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন বৃদ্ধ। এক বছর আগে তাঁর একমাত্র ছেলে গোলাপ সরকারের মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই বৌমা বাবলি বিবি তাঁর সম্পত্তি হাতানোর চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ। নিজের নাবালক সন্তানকে দেখিয়ে স্থানীয় হরসুরা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রবি কুজুরের কাছ থেকে শ্বশুরের মৃত্যুর ভুয়ো শংসাপত্র তৈরী করে নেন ওই মহিলা। ২০২১ সালের জুন মাসে তা দেখিয়ে আদালত থেকে একটি এফিডএফিডও তৈরি করেন তিনি। আর যা দেখিয়েই শ্বশুরের কৃষকবন্ধু প্রকল্পের ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা তুলে নেন বৌমা বাবলি বিবি বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয় বৃদ্ধের নামে থাকা ৮ বিঘা জমি হাতিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন ওই মহিলা বলেও অভিযোগ। দিন কয়েক আগে বৃদ্ধের বাড়িতে বেড়াতে এসে একটি ব্যাগে রাখা ওই এফিডেফিড দেখতে পান তাঁর এক মেয়ে। যা দেখার পরেই আকাশ থেকে পড়েন পরিবারের প্রায় সকলেই। এরপরেই ঘটনা জানিয়ে স্থানীয় তপন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই বৃদ্ধের স্ত্রী মর্জিনা বিবি।
এদিকে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে ২৮ জানুয়ারি শুক্রবার ফের আদালতের মাধ্যমে একটি এফিডেফিড করেছেন ওই বৃদ্ধ। সোমবার ওই ঘটনা জানিয়ে বিডিওর দ্বারস্থ হয়েছেন সত্তোরর্দ্ধ ওই বৃদ্ধ। একজন জীবিত ব্যক্তির মৃত্যুর শংসাপত্র কিভাবে পঞ্চায়েত দিল তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সকলেই। ঘটনা শুনে অবাক হয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ সকলেই।
বৃদ্ধ আফসার সরকার বলেন, মেয়ে ওই কাগজ হাতে না পেলে তিনি জানতেই পারতেন না পঞ্চায়েত প্রধানের সহায়তায় তাকে মৃত বানিয়ে ফেলেছে তার বৌমা। অভিযুক্তদের সকলের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি চান তিনি।
বৃদ্ধের দুই আত্মীয় নজরুল সরকার ও রজনী সরকাররা জানিয়েছেন, এমন ঘটনা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ প্রশাসনকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তপন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রাজু দাস বলেন, ঘটনাটি শুনেছেন তিনি। ওই বৃদ্ধ বেঁচে রয়েছেন। বিডিওর সাথে কথা বলে এব্যাপারে আইনত পদক্ষেপ করা হবে।
যদিও হরসুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রবি কুজুর জানিয়েছেন, ভুল করে আফসার সরকারের নামের আগে মৃত শব্দটি বসে গিয়েছে। তিনি জীবিত রয়েছেন। তার ভুলের ওই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তার বৌমা ওই টাকা তুলে নিয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত বৌমা বাবলি বিবি জানিয়েছেন, ওই শংসাপত্র লটি পঞ্চায়েত থেকেই দেওয়া হয়েছে।

