শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ১৫ মে: পশ্চিমবঙ্গের ইসলামিকরণ করাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের লুকোনো লক্ষ্য। এই অভিযোগ করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। মালদার কালিয়াচকের আইসির বিরুদ্ধে এলাকার মানুষকে মুসলিম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। সুকান্ত মজুমদারের কথায় এই ঘটনায় তৃণমূল সরকারের লুকোনো উদ্দ্যেশ্য প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় এলে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে ধর্মান্তরকরণ বিরোধী আইন আনবে বঙ্গ বিজেপি।
জানা গেছে, মালদা জেলার কালিয়াচক থানার আইসি এলাকার বেশ কিছু গরিব হিন্দু পরিবারকে জোর করে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দিয়েছেন। এরই প্রতিবাদে ধর্নায় বসেছেন ওই পরিবারের মহিলা ও শিশুরা। তাদের অভিযোগ, পরিবারের পুরুষ সদস্যদের গ্রেফতার করে ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এই ঘটনার ছবি তুলে ধরে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় দুজনকে জোর করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয়েছে।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের লুকোনো উদ্দ্যেশ্য বাইরে চলে এসেছে। তৃণমূল সরকারের আসল উদ্দেশ্য ইসলামাইজেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল।”

সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে সুকান্ত মজুমদার লিখেছেন, “কালিয়াচকের ঘটনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে ভাবতে বাধ্য করছে, তৃতীয়বার তৃণমূল ক্ষমতা লাভের পর কী কিছু নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর ক্ষমতার অলিন্দে থেকে মুখোশের আড়ালে তাদের স্বার্থ কায়েম করতে চাইছে?”
বিজেপি রাজ্য সভাপতির কথায়, গণতান্ত্রিক দেশ ভারতবর্ষ সংবিধান অনুসারে চলে এবং সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ ভারতের প্রত্যেকটি নাগরিকের তার ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে। সেই স্বাধীনতা রক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের অর্থাৎ ক্ষমতায় থাকা সরকারের। বিজেপি নেতা, প্রশ্ন তুলেছেন এই জায়গায় দাঁড়িয়ে একজন পুলিশ অফিসার যিনি থানার ইন্সপেক্টর তিনি কীভাবে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য কোনো মানুষকে চাপ দিতে পারেন। তাঁর মতে এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
সুকান্ত মজুমদার প্রশ্ন তোলেন, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে চাকরি নেই, শিল্প নেই, সুশাসন নেই, বাক স্বাধীনতা নেই। এছাড়া আরও নানা সমস্যায় রয়েছে মানুষ। এরপর আবার সাধারণ মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতাটুকুও আর থাকবে না?

ধর্মান্তরিত করা আটকাতে ইতিমধ্যেই একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে ধর্মান্তকরণ বিরোধী আইন আনা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটকের মতো পশ্চিমবঙ্গেও এই আইন প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি বলেন, তৃণমূল সরকার এই আইন আনবে না। কিন্তু রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলেই ধর্মান্তরকরণ বিরোধী আইন আনবেন তারা। কালিয়াচকের ঘটনায় দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। একই সঙ্গে রাজ্যর সকল হিন্দুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছেন তিনি।

