100 days work, Shalbani, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! জঙ্গলমহল শালবনি থেকেই শুরু ১০০ দিনের কাজের, শঙ্করবাঁধে নতুন পুকুর খনন প্রকল্পে কাজ পেয়ে খুশি শ্রমিকরা

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৫ জুন: দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি ব্লকে ফের শুরু হলো মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্পের (১০০ দিনের কাজ) কাজ। যা বর্তমানে রাজ্য সরকার ১২৫ দিনের কাজ হবে ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার শালবনির সাতপাটি অঞ্চলের শঙ্কর বাঁধ এলাকায় নতুন পুকুর নির্মাণের মাধ্যমে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। দীর্ঘদিন পর কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ও আনন্দের আবহ দেখা যায় শ্রমিক মহলে।

শঙ্কর বাঁধে নতুন পুকুর নির্মাণের এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৯ লক্ষ ৬১ হাজার ৪৭ টাকা। প্রকল্পে যুক্ত প্রত্যেক শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ২৬০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এই কাজের মাধ্যমে মোট ৭১৭৩টি শ্রমদিবস তৈরি হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে এলাকায় বহু গ্রামীণ শ্রমিকের হাতে কাজ ও আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

এদিন একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে প্রকল্পের কাজের সূচনা হয়। শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের অতিরিক্ত জেলা শাসক সুকান্ত সাহা কোদাল দিয়ে মাটি কাটেন। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং এলাকার বহু বাসিন্দা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর ও শ্রমনির্ভর পরিবারগুলির কাছে এই কাজ নতুন আশার আলো নিয়ে এসেছে।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই ১০০ দিনের কাজ বন্ধ থাকায় বহু শ্রমিক সমস্যার মুখে পড়েছিলেন। রাজ্য ও কেন্দ্রের টানাপোড়েন, বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ কার্যত থমকে ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এর জেরে গ্রামীণ এলাকায় বহু পরিবার নিয়মিত আয়ের উৎস হারিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে ফের এই প্রকল্প চালু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া বইছে শ্রমিকদের মধ্যে।

স্থানীয় শ্রমিকদের কথায়, দীর্ঘদিন ধরে কাজ না থাকায় সংসার চালাতে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। কেউ কেউ অন্যত্র কাজের খোঁজে যেতে বাধ্য হন, আবার কেউ ধারদেনা করে দিন কাটিয়েছেন। এখন ফের কাজ শুরু হওয়ায় অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে। তাদের আশা, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু অস্থায়ী কর্মসংস্থানই নয়, গ্রামে জলসংরক্ষণ ও পরিবেশগত উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এবার শুধু ১০০ দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না কর্মসংস্থানের সুযোগ। ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে শ্রমিকরা ১২৫ দিনের কাজ পাবেন বলেও জানানো হয়েছে। ফলে গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের জন্য আরও বেশি কর্মদিবস এবং আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই আশাবাদী শালবনি ব্লকের শ্রমিকরা।

শালবনির সাতপাটি অঞ্চলে শঙ্কর বাঁধে নতুন পুকুর নির্মাণ প্রকল্প শুরু হওয়ায় একদিকে যেমন বহু মানুষের হাতে কাজ ফিরছে, অন্যদিকে তেমনই গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সম্পদ সৃষ্টির দিক থেকেও এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর ১০০ দিনের কাজ ফের শুরু হওয়ায় শালবনির গ্রামীণ জীবনে নতুন উদ্দীপনা ফিরে এসেছ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *