DRM office, Khargapur, ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ীদের খড়্গপুর ডিআরএমঅফিস অভিযান

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, ২৫ জুন: রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম কোলাঘাট ফুলবাজারে সম্প্রতি রেল দপ্তর কর্তৃক বেসরকারীকরণের উদ্যোগকে প্রতিহত করে মেঝে, শেড, পানীয় জল, শৌচাগার, পর্যাপ্ত আলো সহ সমস্ত রকম পরিষেবাযুক্ত “ফুলের হাব” নির্মাণের দাবিতে কোলাঘাট ফুলবাজার পরিচালন সমিতি আজ বাজারের ফুলচাষি ও ফুলব্যবসায়ীদের নিয়ে খড়্গপুর ডিআরএম অফিস অভিযানে সামিল হয়।

অভিযানে প্রায় ৫ শতাধিক ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভকারীরা খড়্গপুর রেল স্টেশন থেকে ডিআরএম অফিস পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল ও মেন গেটে বিক্ষোভ দেখায় ও একটি সভা করে। সভায় বক্তব্য রাখেন পরিচালন সমিতির উপদেষ্টা তথা সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক, সভাপতি দেবব্রত কোলে, যুগ্ম সম্পাদক দিলীপ প্রামানিক প্রমুখ। আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন কনফেডারেশন অফ পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সম্পাদক চন্দন রায়, খড়্গপুরের বিশিষ্ট সমাজসেবী সুরঞ্জন মহাপাত্র। পরে এক প্রতিনিধি দল ডিআরএম ললিত মোহন পান্ডে’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ৬ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি হাতে তুলে দেন। নারায়ণবাবু ছাড়াও ডেপুটেশনের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দেবব্রত কোলে, দিলীপ প্রামানিক, সুরঞ্জন মহাপাত্র প্রমুখ। সিনিয়র ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) সন্তোষ কুমারের দপ্তরেও অনুরূপ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

দাবিগুলি হল— ১) রেল দপ্তর কর্তৃক তে- বাজারি টিকিট আদায়ের জন্য বেসরকারীকরণের উদ্যোগ অবিলম্বে বাতিল, ২) বাজারে মেঝে, শেড, শৌচাগার, পর্যাপ্ত পানীয় জল ও আলোর বন্দোবস্ত ৩) বাজার সংলগ্ন এলাকায় ফুলের হাব গড়ে তোলবার জন্য রেল দপ্তরের সহযোগিতা, ৪) ফুলবাজারের আয়তন বাড়িয়ে সুষ্ঠু জলনিকাশীর বন্দোবস্ত, ৫) কোলাঘাট স্টেশনে বিভিন্ন এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ দিয়ে ফুল ভিন রাজ্যে পাঠানোর বন্দোবস্ত, ৬) দক্ষিণ পূর্ব রেলওয়ের ট্রেনের টাইমটেবিল অনুসারে ট্রেন চলাচল সুনিশ্চিত করা।

নারায়ণ চন্দ্র নায়ক তাঁর বক্তব্যকে বলেন, কোলাঘাট ফুলবাজারে ফেরিওয়ালা (তে-বাজারি) টিকিট বাবদ যে অর্থ রেল দপ্তরের কর্মচারীরা আদায় করে, খুব শীঘ্রই সেই নীতি পরিবর্তন করে ঠিকাদারের মাধ্যমে ওই অর্থ আদায় করার জন্য রেল দপ্তর টেন্ডার করার প্রস্তুতি নিয়েছে। রেল দপ্তর বাজারে আগত প্রত্যেক চাষির কাছ থেকে প্রত্যহ ১০ টাকা ও ফুলব্যবসায়ী এবং দোকানদারদের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৪২ টাকা পর্যন্ত অর্থ আদায় করে। অথচ বাজারে নেই-মাথার উপর আচ্ছাদন, নেই ফুল বিক্রির জন্য কংক্রিটের মেঝে, পানীয় জল- পর্যাপ্ত আলো- শৌচাগার প্রভৃতির বন্দোবস্ত। ফলস্বরূপ বাজারে আগত ক্রেতা, বিক্রেতা সহ প্রায় ৫ সহস্রাধিক মানুষজন এক পুঁতিগন্ধময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সৌন্দর্যের প্রতীক ‘ফুল’ কেনাবেচা করতে বাধ্য হয়। এহেন গুরুত্বপূর্ণ এই ফুলবাজারটিতে ফুল সংরক্ষণ ব্যবস্থা সহ আধুনিক ফুলবাজার অর্থাৎ “ফুলের হাব” গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘ দিনের। গত সোমবারের রাজ্য বাজেটে কোলাঘাটে ফুলের হাব তৈরি করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে এবং এজন্য দশ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানাগেছে।

নারায়ণবাবু বলেন, এই অবস্থায় বাজারটির বেসরকারীকরণ করা হলে, বাজারে আগত ক্ষুদ্র ফুল চাষি ও ব্যবসায়ীরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এছাড়াও রূপনারায়ণের উপর কোলাঘাটে তৃতীয় রেল ব্রিজ হওয়ার কারণে ফুলবাজার পার্শ্ববর্তী রেলের ওই খাদের খানিক অংশ মাটি ফেলে ভরানো হচ্ছে। এজন্য বর্ষায় ফুল বাজারের জল নিকাশী ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ওই পরিপ্রেক্ষিতে আজ খড়্গপুর ডিআরএম অফিস অভিযানের কর্মসূচি থেকে ডিআরএম ও সিনিয়র ডিইএন(ইস্ট) কে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি রেল দপ্তর দাবিগুলি পূরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেয় তাহলে ফুলচাষি ও ফুল ব্যবসায়ীরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে নেতৃত্বের পক্ষে থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *