আমাদের ভারত, ২৫ জুন: রাজ্যের সরকারি সাহায্যহীন মাদ্রাসাগুলিতে প্রশাসনিক নজরদারির ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ করল শুভেন্দু সরকার। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পড়ুয়াদের ভর্তির যাবতীয় তথ্য আগামী সাত দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য এক জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে বিকাশ ভবন।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকার পর্ষদে তথ্য আপলোড না করা এবং বহু মাদ্রাসার ইউডাইস কোড না থাকার কারণে রাজ্যস্তরের ডেটাবেস তৈরি করতে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা মেটাতেই এই সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের আলিপুরদুয়ার, বাঁকুড়া, বীরভূম, কোচবিহার, হুগলি, হাওড়া, জলপাইগুড়ি, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর, জেলা সংখ্যালঘু কল্যাণ আধিকারিকদের এই বিষয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিকাশ ভবনের চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যে সিংহভাগ সাহায্যহীন মাদ্রাসা সরকারি বাংলা শিক্ষা পোর্টালে পড়ুয়াদের বর্তমান ভর্তির তথ্য নথিভুক্ত করেনি বলে সরকারের কাছে এই মাদ্রাসাগুলির ছাত্র- ছাত্রীদের সংখ্যার কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই। তদন্তে জানা গেছে, বহু মাদ্রাসার এখনো পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট
ইউডাইস কোড তৈরি হয়নি। রিপোর্ট না থাকার কারণে তারা স্বাভাবিক নিয়মে সরকারি পোর্টালে তথ্য আপলোড করতে পারছে না।
রাজ্যে অনুমোদিত মাদ্রাসার সংখ্যা প্রায় ৬০০-র কাছাকাছি, অন্যদিকে অনুমোদনহীন মাদ্রাসার সংখ্যা হাজারের বেশি। এই দু’ ধরনের মাদ্রাসার পঠন পাঠন এক ধারায় হয়। তবে খারিজি মাদ্রাসা যার পঠন-পাঠন নিয়ে প্রচুর অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তের স্বার্থে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের পড়ুয়াদের সঠিক সংখ্যা ও ডাটাবেস অবিলম্বে প্রয়োজন। যে সমস্ত মাদ্রাসার ইউডাইস কোড নেই, যারা পোর্টালে তথ্য দেয়নি তাদের সরকারি নিয়ম মেনে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে বলা হয়েছে। এই কাজের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাদ্রাসাগুলি টিআইসি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
জেলা আধিকারিকদের মাধ্যমে পাঠানো এই নির্দেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট ফরম্যাটের সমস্ত তথ্যপূরণ করে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার টিআইআসিকে স্বশরীরে স্বাক্ষর করতে হবে। তথ্যের নির্ভুলতা যাচাইয়ের জন্য প্রতিটি মাদ্রাসার সেই স্বাক্ষরিত রিপোর্টের একটি পিডিএফ একটি সফট কপিও বিকাশ ভবনের দপ্তরে পাঠাতে হবে। গোটা প্রক্রিয়াটি চিঠি পাওয়ার পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

