Suvendu, BJP, পশ্চিমবঙ্গেও এবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর উদ্যোগ, বিধানসভায় চলতি অধিবেশনেই বিল আনার ভাবনা শুভেন্দু সরকারের

আমাদের ভারত, ২৫ জুন: উত্তরাখণ্ড, গুজরাট, অসমের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার উদ্যোগ নিল নতুন বিজেপি সরকার। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই চলতি বিধানসভা অধিবেশনে এই সংক্রান্ত বিল পেশ করতে পারে রাজ্য সরকার। বিলটি পাস হলে উত্তরাখন্ড, গুজরাট ও অসমের পর পশ্চিমবঙ্গ হবে অভিন্ন আইন কার্যকর করায় চতুর্থ বিজেপি শাসিত রাজ্য।

সূত্রের দাবি, নতুন সরকার মনে করছে বিবাহ বিচ্ছেদ উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং লিভ ইন সম্পর্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে একটি অভিন্ন দেওয়ানি আইন চালু হলে আইনের শাসন আরো শক্তিশালী হবে রাজ্যে। একই সঙ্গে নারী পুরুষের সমাধিকারের ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

সম্প্রতি অসম বিধানসভায় দীর্ঘ বিতর্কের পর ইউসিসি বিল পাস হয়েছে। সেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা দাবি করেন, এটি কেবল বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, সংবিধানের নির্দেশমূলক নীতির একটি দীর্ঘদিনের অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। এমনকি গণপরিষদের বিতর্ক প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর কংগ্রেস ও একসময় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি আইনের পক্ষে ছিল।

অসম সরকারের দাবি ছিল, এই আইন মূলত বিবাহ বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, লিভ ইন সম্পর্কে নথিভুক্তকরণ এবং বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার মত বিষয়গুলিকে এক ছাতার তলায় আনবে। পাশাপাশি নারী অধিকার ও লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠা এই আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। সেখানকার জনজাতি সম্প্রদায়কে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, শতাব্দী প্রাচীন উপজাতি প্রথা ও সংবিধান অধিকারকে অক্ষুন্ন রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের প্রস্তাবিত বিলেও পাহাড়, জঙ্গলমহলের বেশ কিছু সম্প্রদায়ের প্রচলিত রীতিনীতি এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হতে পারে, তবে এই চূড়ান্ত বিষয়ে বিল পেশের সময় স্পষ্ট হবে।

অসম বিধানসভায় ইউসিসি বিল নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। কংগ্রেস বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি তুলেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে সরকার সংবিধানশীলতা দেখায়নি।তৃণমূল কংগ্রেস বলেছিল, আইনের কিছু ধারা ইসলাম ধর্মের ব্যক্তিগত আইন ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে। তবে শিশু বিবাহ রোধ ও বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণের মতো কয়েকটি ধারাকে তারা সমর্থন করেছিল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি বিল পেশ হলে নিঃসন্দেহে সেটা রাজ্য রাজনীতির অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠবে। বিজেপি এই আইনকে নারীর অধিকার, সমান নাগরিক আইন এবং সুশাসনের প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরবে। অন্যদিকে বিরোধীরা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সামনে রেখে বিরোধিতা করতে পারে।

তবে বিজেপি নেতৃত্বের মতে, অভিন্ন দেওয়ানি আইন কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং সব নাগরিকের জন্য একই দেওয়ানি আইন নিশ্চিত করার সাংবিধানিক উদ্যোগ। এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সেই দিকেই এগোচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *