সরকারের বিধিনিষেধে অনিশ্চয়তায় কয়েকলক্ষ মানুষের রুজিরুটি, মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ ট্যুর অপারেটররা

আমাদের ভারত, শিলিগুড়ি, ৪ জানুয়ারি: করোনার বাড়বাড়ন্তে জেরে রাজ্যে লাগু হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। এর কারনে প্রভাব পড়বে রাজ্যের কয়কলক্ষ মানুষের জীবনে। এরা প্রত্যেকেই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত পর্যটন শিল্পের সাথে। তাই করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতে পর্যটন শিল্পকে স্বভাবিক করা যায় সেই দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন। সংগঠনের দাবি, ৫০% পর্যটক নিয়ে কোভিড গাইডলাইন মেনে খোলা হোক পর্যটন কেন্দ্রগুলি।

করোনার কারণে এমনিতে গত প্রায় দু’বছর ধরে উত্তরবঙ্গের পর্যটনশিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কিন্তু চলতি মরসুমে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই উত্তরবঙ্গে বেড়েছিল পর্যটকদের আগমন। চলতি মরশুমের ডিসেম্বর মাসে আচমকাই টানা কয়েকদিন পাহাড়ে তুষারপাত হওয়ায় এক ধাক্কায় উত্তরবঙ্গে জোয়ার আসা শুরু হয়েছিল এই শিল্পে। আর তাতেই নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছিল এই ব্যবসার সাথে জড়িত কয়েক লাখ মানুষ। তবে চলতি মাস থেকে আবারও রাজ্যে করোনার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আবার কড়া বিধি-নিষেধ জারি করেছে রাজ্য সরকার। বিধি-নিষেধে রাজ্যের সমস্ত সাফারি পার্ক এবং পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। আর এতেই মাথায় হাত পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত উত্তরবঙ্গের ট্যুর অপারেটরদের।

মরশুমে পর্যটকদের ভিড়ে ঠাসা ছিল পর্যটন কেন্দ্রগুলি, কিন্তু এই ঘোষণার পর সেই ভিড় এক ধাক্কায় প্রায় শূন্য অবস্থায়। বছরের শেষ থেকে চলতি মরসুমে বুকিংও হয়ে গিয়েছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। সেখানে রাজ্যের বিধিনিষেধের ফলে প্রায় সমস্ত বুকিং বাতিল। এই মুহূর্তে যে সমস্ত পর্যটক রয়েছে তারাও বাড়ি ফেরার পথে। সব মিলিয়ে আবারও চরম ক্ষতির মুখে পড়তে চলেছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাই উত্তরবঙ্গের এই শিল্প যাতে বাঁচে এই আবেদন নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রীর দ্বারস্থ হচ্ছে পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল এন্ড ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনের তরফে মঙ্গলবার শিলিগুড়ি জার্নালিস্ট ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে বলা হয় পর্যটন কেন্দ্রগুলি যাতে কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০% শতাংশ পর্যটক নিয়ে খোলা যায় তার আবেদন জানিয়ে ৫ জেলার জেলাশাসকদের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারকলিপি পাঠাবে।

এদিন সংবাদমাধ্যমে সংগঠনের সম্পাদক সন্দীপন ঘোষ বলেন, উত্তরবঙ্গে এই পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত রয়েছে কয়কলক্ষ মানুষ। যাদের এই শিল্পের মাধম্যে রুজিরুটি চলে। তবে এই বিধিনিষেধে প্রচুর মানুষের রুজিরুটিতে টান পড়বে। যেখানে শপিংমল, সিনেমা হল সব ক্ষেত্রেই ৫০% লোক নিয়ে খোলা থাকছে। সেখানে পর্যটন কেন্দ্রগুলি ৫০% পর্যটক নিয়ে খোলা হোক। কারণ পর্যটন কেন্দ্রগুলি বন্ধ থাকলে পর্যটকরা হোটেলে বসে থাকতে আসবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *