স্ত্রীকে কটুক্তির প্রতিবাদ করায় বারাসতে একদল যুবকের হাতে আক্রান্ত হল স্বামী

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১ জানুয়ারি: বর্ষবরণের রাতে স্ত্রীকে কটুক্তির প্রতিবাদ করায় একদল যুবকের হাতে আক্রান্ত হল স্বামী। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে জেলা সদর বারাসতের বেলতলা এলাকায়। দম্পতির দুটি মোবাইল ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। হাতে চোট পেয়েছেন স্বামী।

শনিবার বিকেলে বারাসত থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন ওই দম্পতি।পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জেলা সদর শহরে এই ঘটনায় যথেষ্ট আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন ওই দম্পতি। বর্ষবরণের রাতে এই ঘটনা ফের উস্কে দিল বছর দশেক আগে বোনের সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে মাধ্যমিক পরিক্ষার্থী ভাই রাজীব দাসের খুনের ঘটনা। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে রাতে বারাসত শহরের নিরাপত্তা নিয়ে।

বারাসত পুরসভার শেঠপুকুর সংলগ্ন শিবানন্দ পল্লীর ধানসিঁড়ি আবাসনে থাকেন সৃজিত বর্ধন। তিনি পেশায় একজন টেক্সটাইল ডিজাইনার। শুক্রবার বর্ষবরনের রাতে বারাসতের নিজেদের আবাসন থেকে সৃজিত স্ত্রীকে নিয়ে বেলতলায় গিয়েছিলেন এক বন্ধুর বাড়ি। আনুমানিক রাত একটা নাগাদ তিনি স্ত্রীকে নিয়েই ফিরছিলেন। বন্ধুর বাড়ির অদূরেই একটা ভাঙ্গাচোরা বাড়ির ভিতর থেকে এক যুবক ওই দম্পতির মুখে টর্চের আলো ফেলে। সঙ্গে কিছু প্রশ্নও। উত্তরে অবশ্য সৃজিত জানায়, তারা বাড়ি ফিরছে। এরপর আবার প্রশ্ন সঙ্গে মেয়েটি কে?সৃজিত তাকে জানায় স্ত্রীকে নিয়ে বন্ধুর বাড়ি থেকে নিজেদের বাড়ি ফিরছেন। সঙ্গে সঙ্গেই তিন-চার জন যুবক বেরিয়ে এসে জানায়, এখানে নোংরামি করছিস। সৃজিতের স্ত্রীকে লক্ষ্য করে কটুক্তিও করে বলেই অভিযোগ। স্ত্রীকে কটুক্তির প্রতিবাদ করেন সৃজিত। অভিযোগ, এরপরেই আরও কয়েকজন যুবক এসে মারধর করে সৃজিতকে।স্বামীকে বাঁচাতে গেলে ফের তাকে কটুক্তি শুনতে হয়। মারধরের ফলে দম্পতির দুটি মোবাইল ভেঙ্গে যায়। সৃজিত পড়ে যান রাস্তার ধারের ড্রেনে।বেশ কিছুক্ষণ এইভাবে চলার পর জখম অবস্থায় কোনওরকমে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির গেট পর্যন্ত আসেন সৃজিতবাবু। অভিযোগ, দম্পতির বাড়িতে ঢোকার মুখেই একটা বাইকে করে বেলতলার দুই যুবক এসে উল্টে চার্জ করে সৃজিত এবং তার স্ত্রী তাদের বন্ধুদের মারধর করেছে।কিন্তু ওই দম্পতির চিৎকারে আবাসনের কয়েকজন বেরিয়ে আসেন। এরপরেই বাইক আরোহী দুই যুবক তাদের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কে রয়েছেন বর্ধন দম্পতি। রাতে দুচোখের পাতা এক করতে
পারেননি তারা।

এদিন বিকেলে ওই দম্পতিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান বারাসত থানার পুলিশ। গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

বছর দশেক আগে বাংলা নববর্ষের রাতে বারাসত স্টেশনে নেমে ভাই রাজীব দাসের সঙ্গে বিজয়নগরের বাড়ি ফিরছিলেন এক তরুণী। প্রশাসনিক ভবন চত্বরেই তরুণীকে কটুক্তি করে কয়েকজন দুষ্কৃতি। প্রতিবাদ করেছিল তরুণীর মাধ্যমিক পরিক্ষার্থী ভাই রাজীব দাস। কিন্তু দিদির সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে দুষ্কৃতিদের হাতে খুন হতে হয়েছিল ভাই রাজীব দাসকে। শুক্রবার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কটুক্তির প্রতিবাদ করায় একদল যুবকের হাতে স্বামীর আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাই ফের উস্কে দিল রাজীব দাস হত্যার ঘটনা।

সৃজিতবাবু বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে রাস্তায় চলাটাও কি বারাসতে অপরাধ? স্ত্রীকে নিয়ে ফেরার কথা ওই যুবকদের বারবার বলা সত্বেও কাজ হয়নি। কটুক্তি হজম করতে হল আমার স্ত্রীকে। গোটা বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আমি ওই যুবকদের কঠোর শাস্তি চাই।

সৃজিতের স্ত্রী রিমি বলেন, বারাসতের মতো শহরে রাতে স্বামীর সাথে পথ চলতে গিয়ে যদি এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়, তার চেয়ে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। পুলিশ প্রশাসনের উপর আমাদের আস্থা রয়েছে।

বারাসত পুরসভার প্রশাসক সুনিল মুখোপাধ্যায় বলেন, বারাসতে এই ধরনের ঘটনা কেন ঘটবে? আমি ওই দম্পতিকে বলেছি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে। পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যাবস্থা নিক। বারাসতের এই ঘটনাটি শনিবার সন্ধ্যার পরেও জানেন না বারাসত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি খোঁজ নেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *