সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৫ মার্চ: পণের দাবিতে এক গৃহবধূকে বিষ খাইয়ে খুন করার অভিযোগ উঠল শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙ্গা থানার সুভাষপল্লী এলাকায়। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুরকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত গৃহবধূর নাম প্রীতি চক্রবর্তী (২৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এক বছর আগে গোবরডাঙ্গা থানার সুভাষপল্লীর বাসিন্দা আশীষ চক্রবর্তীর কন্যা প্রীতি চক্রবর্তীর সঙ্গে ষষ্ঠীতলার বাসিন্দা অনুপ মুখার্জির ছেলে অভিষেক মুখার্জির সঙ্গে সামাজিক মতে বিয়ে হয়। কয়েক মাস সুখে শান্তিতে থাকলেও গত চার মাস ধরে পণের দাবিতে প্রীতির ওপর অত্যাচার শুরু করে স্বামী সহ তাঁর শ্বশুর শাশুড়ি এমনটাই অভিযোগ। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে কয়েকবার বাপের বাড়িতেও চলে আসে প্রীতি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অশান্তি চরমে ওঠে। সকাল থেকে চলে তাঁর ওপর মারধর ও শারীরিক অত্যাচার। এমনকি মোবাইল ফোনও কেড়ে নেয় তার স্বামী। এরপর রাতে খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাইয়ে দেয় স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির লোকেরা বলে অভিযোগ প্রীতির পরিবারের। গভীর রাতে ওই গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়েলে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।
এর পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন গৃহবধূর বাপের বাড়িতে খবর দেয় যে তাদের মেয়ে অসুস্থ হয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি আছে। প্রীতির বাবা-মা গিয়ে দেখেন তাদের মেয়ের অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে।
প্রীতির মা শুকলা চক্রবর্তী বলেন, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই মেয়েকে মারধর করত। বিয়ের সময় সামর্থ মতো সোনার গয়না সহ আসবাব পত্র দিয়েছিলাম। ফের বিয়ের কয়েক মাস যেতে না যেতে পনের দাবি করে। মেয়েকে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে দিত না। ঘরের দরজা বন্ধ করে মুখে কাপড় দিয়ে মেয়েকে মারধর করত অভিষেক ও তার বাবা মা। ঘটনার পর মৃত প্রীতির বাড়ির লোকজন বৃহস্পতিবার রাতেই গোবরডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মৃতের বাড়ির লোকের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী ও শ্বশুড়কে রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার ধৃত স্বামী ও শ্বশুকে বারাসত আদালতে তোলা হয়।

