জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৪ মার্চ: বিল্ডিংয়ের ওপরতলায় নার্সিংহোম। নীচে বিলেতি মদের দোকান। সন্ধ্যা গড়ালেই মদ্যপদের উপদ্রব। আর মদ্যপদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ট রোগীর আত্মীয়স্বজন থেকে আশপাশের বাসিন্দারা। মদ্যপদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে মদের দোকান অন্যত্র সরানোর দাবিতে সরব হল এলাকাবাসী। ঘটনাকে ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে দুর্গাপুর স্টেশন সংলগ্ন শ্রমিক নগরে।
ঘটনায় জানা গেছে, দুর্গাপুর স্টেশন সংলগ্ন শ্রমিকনগরে রয়েছে এক বহুতল মার্কেট কমপ্লেক্স। তার আশপাশে রয়েছে ক্রিকেট অ্যাকাডেমি। কিছুটা দূরে রয়েছে স্কুল। আবার ওই বিল্ডিংয়ে ওপরের তলায় নার্সিং হোম। একাধিক ঔষধের ও অন্যান্য দোকান রয়েছে। ব্লিডিংয়ের নীচে একটি স্টলে রয়েছে বিলেতি মদের অনুমোদিত দোকান। আর তাতেই বিপত্তি। সন্ধ্যা হলেই মদ্যপদের যেমন ভিড়, তেমনই দৌরাত্ম্য শুরু হয়। আর মদ্যপদের উপদ্রবে নার্সিং হোমের আসা রোগীর আত্মীয় স্বজনরা অতিষ্ট ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একই রকমভাবে ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ক্ষুদে খেলওয়াড়রা আতঙ্কিত। ইতিমধ্যে এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে সরব হয়েছে। এলাকায় সুষ্ঠু সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতে বৈধ ওই মদের দোকান অন্যত্র সরানোর আবেদন জানিয়েছে।
ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা জানান, “আশপাশে একাধিক মন্দির রয়েছে। মদ্যপদের উপদ্রবে মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। দিবালোকে যেমন মদ্যপদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। তেমনই সন্ধ্যার অন্ধকার নামলেই এলাকার রাস্তায় নির্ভয়ে যাতায়াত করা যায় না। এলাকার সুষ্ঠ সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।” বাসিন্দারা আরও জানান, “নার্সিং হোমে বহু রোগী আসে। কিন্তু মদের দোকানে যেভাবে ভিড় থাকে সুরাপ্রেমীদের, তাতে রোগীর পরিজনরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এলাকায় চুরি, ছিনতাই বাড়ছে। তাই মদের দোকানটি অন্যত্র সরানোর আর্জি জানিয়েছি। গোটা বিষয়টি লিখিতভাবে পুলিশ প্রশাসন ও আবগারি দফতরে জানানো হয়েছে।”
রোগীর ও রোগীর আত্মীয়স্বজনের সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের স্বার্থে মদের দোকান অন্যত্র সরানোর আবেদন জানিয়েছে নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। মার্কেট কমপ্লেক্সের মালিক সায়নদেব কেশ জানান, “মদের দোকান অন্যত্র সরে যাওয়ার নোটিশ আমরা দিয়েছি। গত কয়েকবছর ধরে আমাদের কোনওরকম ভাড়া দিচ্ছে না। দোকান ভাড়ার কোনওরকম চুক্তি নেই। অথচ তার মদের দোকানের লাইসেন্স রিনিউ কিভাবে হচ্ছে আমরা অন্ধকারে।”
এবিষয়ে দুর্গাপুরের বিজেপি কাউন্সিলর চন্দ্রশেখর ব্যানার্জি বলেন, “রাজ্য সরকারটাই চলছে মদের দোকানের রেভিনিউয়ের ওপর। সাধারন মানুষের কথা চিন্তাভাবনা করে না। সুষ্ঠু সামাজিক পরিবেশের স্বার্থে মন্দির, নার্সিং হোম স্কুলের পাশে মদের দোকান করা উচিত নয়।”
দুর্গাপুর ৪ নং বরো চেয়ারম্যান সুনীল চ্যাটার্জি বলেন, “এধরনের কোনও অভিযোগ আসেনি। তবে অভিযোগ আসলে অবশ্যই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরকে জানানো হবে।”
দুর্গাপুর মহকুমাশাসক শেখর চৌধুরী জানান, “এখনও কোনও অভিযোগ আসেনি। এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ করলে অবশ্যই বিষয়টি দেখা হবে।”

