এক বছরেও পেনশন চালু হয়নি, অনটনে আসানসোল কর্পোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত সুইপার

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৫ মার্চ: অবসর নেওয়ার এক বছর পরেও চালু হয়নি পেনশন। জোটেনি গ্র্যাচুয়টি, ছুটির টাকা। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে অপারগ। একপ্রকার অনাহারে দিন কাটছে বৃদ্ধের। সংশ্লিষ্ট দফতরে যাতায়াত করে জুতোর শুকতলা খুঁইয়েছে। বর্তমানে পঙ্গু হয়ে গৃহবন্দি অবস্থায় দিন কাটছে সনাতন হাঁড়ি নামে আসানসোল কর্পোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত এক বৃদ্ধ সুইপারের।

সনাতন হাঁড়ি, বুদবুদ থানার মানকরের বাসিন্দা। মানকর লাইব্রেরি সংলগ্ন এক ভাড়া বাড়িতে কোনওভাবে দিন যাপন করছেন।
একবছর আগেও আসানসোল কর্পোরেশনের সুইপারের কাজে নিযুক্ত ছিলেন। গত ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাসে চাকরী থেকে অবসর নেয়। ওই বছর ২৮ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট দফতরে অবসরের পর পেনশন চালু ও যাবতীয় ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদনপত্র জমা দেন। যদিও পিএফের টাকা ওই সময় হাতে পেয়েছিল এবং তাতে মাস কয়েক চিকিৎসা ও সংসার খরচের কাজে লাগে। অভিযোগ, গত ছ’মাস ধরে একপ্রকার অর্ধাহার অনাহারে দিন কাটছে। অর্থাভাবে চিকিৎসার খরচ চালাতে অপারগ। বর্তমানে পঙ্গু হয়ে গৃহবন্দী অবস্থায় দিন কাটছে।

বাড়িতে এক ছেলে উচ্চমাধ্যমিকে পাঠরত। এক মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। সনাতন হাঁড়ি জানান, “চরম আর্থিক অনটনে অনাহারে দিন কাটছে। গত বছর যাবতীয় কাগজ জমা দেওয়ার পর বেশ কয়েকবার গিয়েছিলাম। কিন্তু, সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি। টালবাহানা করতে শুরু করে। এখন পঙ্গু হয়ে পড়েছি। চলাফেরা করতে অক্ষম। তাই আর ওই অফিসে যেতে পারছি না। এই অনটনের সময় আমার গ্র্যাচুয়টি, ছুটির টাকা পাওয়া গেলে খুব ভালো হয়। পেনশন চালু হলে অনাহারে দিন কাটাতে হত না। এখন পরিবারের সকলকে নিয়ে আত্মহত্যা ছাড়া উপায় নেই। বিষয়টি আবারও ডাক মাধ্যমে কর্পোরেশনের মেয়রকে জানিয়েছি।” এবিষয়ে আসানসোল কর্পোরেশনের মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *