লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করতে বৈঠকে গৃহমালিক সংগঠন

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ৪ ডিসেম্বর: দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে গৃহমালিকদের। চরম অবিচারের শিকার হচ্ছেন ওঁরা। অন্তত সেরকমই অভিযোগ দি ক্যালকাটা হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের। লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করতে শনিবার সন্ধ্যায় বৈঠক করলেন তাঁরা।

”নয়া আইন রূপায়িত করতে যাচ্ছে কলকাতা পুরসভা। সম্পত্তিকর আদায়ে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু আমাদের বক্তব্যগুলো কে শুনছে?“ প্রশ্ন গৃহমালিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার রক্ষিতের। তাঁর কথায়, গিরীশ পার্ক মেট্রো স্টেশনের অদূরে ডব্লুসি ব্যানার্জি স্ট্রিটে আমাদের একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া এগারো জন। এগারো ঘরের ভাড়া মাসে কত হতে পারে? শুনলে শুধু অবাক হবেন, মাত্র নয়শো টাকা। ওই রাস্তারই শেষ প্রান্তে আমাদের আর একটি বাড়িতে ভাড়াটে সাতটি পরিবার। সাত ঘর ভাড়াটিয়ার মোট ভাড়া মাসে সাকুল্যে সাড়ে তিনশো টাকা। চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ বছর আগে এই ভাড়াতে পরিবারগুলি ঘর ভাড়া নিয়েছিল। তারপর থেকে ভাড়া আর বাড়েনি। বলা ভালো, মুখের কথায় বাড়াতে চায়নি।’ আরও মর্মান্তিক হল, আইন-আদালত করার পরিণতি, মাস শেষে দুই বাড়ির উনিশশো টাকা ভাড়াও চোখে দেখেন না সুকুমারবাবুর পরিবার। আদালতে মামলা চলায় প্রায় দু-দশক হল, ভাড়ার টাকা জমা হয় রেন্ট কন্ট্রোলারের অফিসে। মাঝেমধ্যে সেই অফিস থেকে ভাড়ার টাকা জমা পড়ার রশিদ আসে ডাকে।“

একটার পর একটা জীর্ণ বাড়ি ভেঙ্গে পড়ছে। প্রাণহানি হলেই কিছু লোক কাঠগড়ায় মালিকদের দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিনা ভাড়ায় বা নামমাত্র ভাড়ায় বছরের পর বছর যাঁরা বাড়িগুলো বেআইনিভাবে দখল করে আছেন, কিসের ভিত্তিতে তাঁরা অধিকারের কথা বলেন?“ এই প্রশ্ন তুলে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র গোবিন্দ দে’র বংশধর সুজয় দে বলেন, “শোভাবাজারের বলরাম মজুমদার স্ট্রিটের একটি বাড়িতে শোয়ার ঘর, রান্নাঘর, কমন বাথরুম-সহ ভাড়া মাসে সাকুল্যে দশ টাকা৷ শ্যামবাজার পাঁচমাথায় আমাদের বাড়ির নীচে দোকান ঘরের ভাড়া একশো দেড়শো টাকা। সেই টাকাও আমাদের পরিবার মাস পড়লে হাতে পায় না। ভাড়ার টাকা জমা হয় সেই রেন্ট কন্ট্রোলারের অফিসেই।“

সমাধানের পথ তাহলে কোথায়? হাতিবাগানের রাজা রাজকৃষ্ণ স্ট্রিটের গৃহমালিক, পেশায় চিকিৎসক শঙ্খদীপ দাশগুপ্ত জানান, আমার এক ভাড়াটিয়া ১০ বছর ধরে ভাড়া দেন না। মামলা হল। উনি বললেন, যখন সম্ভব হবে তখন নিশ্চয়ই ভাড়া দেবেন। বিচারক তাতেই সম্মতি দিলেন। এর পর আমি বাধ্য হয়ে কয়েক লক্ষ টাকা ভাড়াটিয়াকে দিলাম ফ্ল্যাট খালি করতে। বন্ধুদের বলব, পুরনো ভাড়াটিয়া তুলতে আদালতের চক্করে সারা জীবন না ঘুরে ভাড়াটিয়ার সঙ্গে একটা সমঝোতায় আসুন।“

কলেজ স্ট্রিটের গৃহমালিক জয়ন্ত পাইনকে স্থান সঙ্কুলানের জন্য থাকতে হচ্ছে দমদমে। ভাড়াটিয়ার দাপটে বিরক্ত জয়ন্তবাবুও বলেন, একশ্রেণির আইনজীবীর অনভিজ্ঞতার মাশুল দিতে হচ্ছে আমাদের।

ভুক্তভোগী আর এক গৃহমালিক অভিজিৎ চক্রবর্তীর কথায়, “অধিকাংল ক্ষেত্রে আমরা বাড়িওয়ালারা ঝঞ্ঝাট এড়াতে অথবা অশান্তি এড়াতে আদালতের দ্বারস্থ হই। মনে করুন কোনও ভাড়াটিয়া তালা দিয়ে অন্য বাড়িতে চলে গেছে। আপনি তার ওপর অন্য তালা লাগিয়ে দিন এবং ভাড়াটিয়াকে বাধ্য করুন আপনার সঙ্গে আলোচনায় বসতে। নিজের হাতে সবটা করা উচিত নয়। অনেক সময় আমরা এই বাস্তবতা ভুলে যাই। ভাড়াটিয়ার লাগানো তালা না ভেঙ্গে আপনি দ্বিতীয় একটা তালা লাগিয়ে দিন। ভাড়াটিয়ার তালার উপর দিয়ে। তালা ভাঙ্গা হলো না আবার সেও ঘরে ঢুকতে পারবে না

অভিজিৎবাবুর মতে, “মনে করুন ভাড়াটিয়া ভাড়া ঘর মেরামত করছে না। বাড়িওয়ালার উচিত স্থানীয় থানা এবং পুরসভায় চিঠি এবং ইমেইল পাঠিয়ে জানিয়ে রাখা এই বাড়ি বিপদজনক হয়ে উঠছে এবং তার দায় সমস্ত ভাড়াটিয়ার। সেক্ষেত্রে ভাড়াটিয়াকে জানিয়ে দিন সেও ফেলে রাখছে আপনিও ফেলে রাখবেন। তাতে ওর কোনো লাভ নেই। তার থেকে আপনি যে এমন বলবেন তাতে রাজি হলেও ওর লাভ। জীবদ্দশায় আর কোনও টাকা পাবে না এটা সরাসরি জানিয়ে দিন। দেখবেন সুড়সুড় করে অল্প টাকাতেই রাজি হয়ে যাবে।

অভিজিৎবাবু জানিয়েছেন, “প্রশাসনকে বাধ্য করতে হবে বাড়ি ভেঙ্গে পড়লে জনস্বার্থে বাড়ি মেরামত করার জন্য ভাড়াটিয়াকে বাধ্য করতে। ভাড়াটিয়া যখন দেখবে ১০ বছর পড়ে থেকেও কোনও টাকা পাব না অথচ মেরামত করার জন্য বাধ্য হয়ে খরচা করতে হচ্ছে তখন সে আপনার বলা টাকাতেই রাজি হয়ে যাবে। আমার মতে প্রত্যেকটি বাড়িওয়ালার কাউন্সেলিং করা দরকার। ভাড়াটিয়ার চাপে ভেঙে না পড়ে পাল্টা চাপ দেওয়ার কৌশল শেখা উচিত। এটা পুরো মানসিক খেলা। মনে করুন পাড়ায় প্রচুর মশা হয়েছে এবং ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া ছড়াচ্ছে। পাড়ার ১০ জনের ছবি নিয়ে থানায় জমা দিন যে আপনার ভাড়াটিয়া বাড়ি বন্ধ করে চলে গেছে ভিতরে জল জমছে , ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া ছড়াচ্ছে, পাড়ায় কারুর মৃত্যু হলে ওই ভাড়াটিয়া দায়ী হবে। মনের কোণে প্রত্যেকটি মানুষ স্বার্থপর। মশা বেড়ে গিয়ে ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া ছড়াচ্ছে , এই ধারণাটা ছড়িয়ে দিতে পারলে ভাড়াটিয়া দায়ী হবে।“

1 thoughts on “লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করতে বৈঠকে গৃহমালিক সংগঠন

  1. Soumojit Sen says:

    Being the landlord there has to be something which can help the landlord and landlady to get rid of this pathetic problem. Why the old tenants enjoy it thru out their life’s and there is no value of the ancestral properties which a landlord owns.

Leave a Reply to Soumojit Sen Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *