আমাদের ভারত, ২৩ অক্টোবর:
বাংলা ও বিহার এই দুই রাজ্যের কিছু অংশ নিয়ে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠনের কাজ শুরু করেছে কেন্দ্র। মূলত উত্তর বঙ্গের বেশ কটি জেলা এই নয়া বিভাগের অংশ হবে। সর্বভারতীয় এক দৈনিকে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি নতুন কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল গঠনের কথা শোনা যাচ্ছে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলা নিয়ে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারের কিষাণগঞ্জ, পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় গিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বেশকিছু স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন। জানা যাচ্ছে, সেই সময় স্থানীয়রা বাংলাদেশের অনুপ্রবেশ সমস্যার কথা অমিত শাহের কাছে জানান। তার পরেই অমিত শাহ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ও অধিকারিকদের এই বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে এটা হবে নবম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ভাগ হয় তাহলে যে নয়া কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল তৈরি হবে সেখানে রাষ্ট্রপতি দ্বারা নির্বিচিত প্রশাসক ক্ষমতায় বসবে।
এক আধিকারিকের কথায়, বিহারের কিষাণগঞ্জ, আরারিয়া, কাটিহার, পুর্নিয়া ও পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার নিয়ে একটি নতুন কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল তৈরি হবে
সম্ভবত বিহারের ৪০টি ও পশ্চিমবঙ্গের ৮০টি বিধানসভা এলাকা নিয়ে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠিত হবে, অর্থাৎ সেক্ষেত্রে গোটা উত্তরবঙ্গ–ই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হতে চলেছে। ওই আধিকারিক জানান, ইতিমধ্যেই নয়া কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল গঠনের কাজ শুরু হয়ে গেছে।
দীর্ঘ দিন ধরে উত্তর বঙ্গ অবহেলিত বলে দাবি করা হয়ে থাকে। যে ভাবে দক্ষিণবঙ্গ প্রধান্য পায় উত্তর বঙ্গ পায় না। তাই উত্তর বঙ্গকে আলাদা রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবি উঠেছে বার বার। বিজেপির নেতাদের মুখেও সেকথা শোনা গেছে অনেক বার। উন্নয়ন ও জনসংখ্যার বিন্যাসের বিরাট পরিবর্তনের কারণে এই ভাগাভাগি প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা। উত্তরবঙ্গে যেহেতু বিজেপি তুলনামূলক শক্ত, তাই কেন্দ্রীয় সরকার শীঘ্রই এই পদক্ষেপ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই দাবি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে উত্তর বঙ্গে বিজেপির সংগঠন আরো চাঙ্গা হবে ও দ্রুত জনবিন্যাস বদলের আশঙ্কা রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হলে অনুপ্রবেশ সমস্যা সমাধান করা সহজ হবে। কারণ সীমান্ত রক্ষী বাহিনির কার্যকলাপে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ থাকবে না।
তবে এই তথ্য প্রকাশিত হতেই তীব্র বিরোধিতা করেছে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের হার সহ্য করতে না পেরে বাংলা দখল করতে এই কৌশল নিয়েছে বিজেপি। একটি বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর থেকেই কেন্দ্র বাংলা দখল করতে এই নীতি গ্রহণ করেছে। বাংলার আঞ্চলিক অখন্ডতাকে বিভক্ত করতে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করতে চাইছে যার মধ্যে বিহারের পূর্ণিয়া, আরারিয়া, কিষানগঞ্জ, কাটিহার রয়েছে। অন্যদিকে বাংলার উত্তর দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন অঞ্চলের থাকবে। একই সঙ্গে তার দাবি, ১৯০৫ সালে বাংলা যেমন বঙ্গভঙ্গ রদ করেছিল এবারের চক্রান্তও সেইভাবে বাংলা রুখে দেবে।

