রাজেন রায়, কলকাতা, ২৪ ডিসেম্বর: ১৯ তারিখে ভোট এবং ২১ তারিখে ফলাফল বেরিয়েছে কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের। ভোটের দিন থেকেই তৃণমূল তথা শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাকি সব বিরোধী দল। সন্ত্রাসের ভোট, রিগিং, ছাপ্পা ভোটের বিরুদ্ধে মামলায় গিয়েছে আদালতেও। তবে কমিশন ক্লিন চিট দিয়েছিল আগেই, পুরভোট পুনরায় করানোর প্রশ্ন ওঠেনি তাই। ফলফলে দেখা গেল ১৪৪ আসনে ১৩৪ আসন পেয়েছে তৃণমূল, বাকি গুলি গেছে নির্দল সহ বিরোধী দলগুলির কাছে। আজ সকল জয়ী প্রার্থীরা শপথ নিয়েছেন। কলকাতার ১৪৪ ওয়ার্ডে মানুষের জন্য কাজ করার শপথ নিয়েছেন তাঁরা।
এই নির্বাচন মমতার কাছে ভোটে একঝাঁক নতুন মুখকে নিয়ে এসেছিল। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ আবার কোনো না কোনো নেতা নেত্রীদের কন্যা, পুত্র বা স্ত্রী। এবং প্রথম বার ভোটের ময়দানে নেমে তারাও বিপুল জয় এনেছেন তৃণমূলের ঘরে। অন্যদিকে এই ভোট থেকে ফের ফেরার ভরসা দেখছে লাল পতাকা। সংখ্যা হিসেবে মাত্র দুটি আসন জিতেছে ঠিক কথা, কিন্তু কলকাতার ৬৬ টি ওয়ার্ডে দ্বিতীয় স্থানে তারাই। ২১ তারিখে কলকাতায় মূলত দু’রঙের আবির উড়েছে। এক সবুজ উড়েছে গড় ধরে রাখার আনন্দে, আর লাল আবির উড়েছে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে। আজ সব দলের কাউন্সিলররা শপথ নিচ্ছেন। লক্ষ্য মহানগরকে আরও উন্নত বানানো। তৃণমূলের তরফে আগেই বলা হয়েছে আরো নমনীয় হতে হবে কাউন্সিলরদের, লক্ষ্য হতে হবে তিলোত্তমার সার্বিক উন্নয়ন, ইতিমধ্যে পয়েন্ট করে দেওয়া হয়েছে কী কী করতে হবে তার। এখন দেখার তাঁরা তা পালন করেন কি না হাই কমান্ডের নির্দেশ।
মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হয়ে শপথ নিলেন ব্যানার্জি বাড়ির বউ, কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। জিতেছেন বিপুল ব্যবধানে। একেবারে মমতার ওয়ার্ডের কাজ, সেই নিয়ে চিন্তিত কি না প্রশ্ন উঠলে কাজরী দেবী জানিয়েছেন, বহু দিন ধরেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি, তাই নতুন চিন্তা নেই কোনও, কেবল এবার কাউন্সিলর পদে বসে কাজ করবেন। প্রাথমিক কাজ হিসেবে এলাকার কিছু জায়গার জলের সমস্যা, গঙ্গার ঘাট তৈরি, কয়েকটি পার্ককে সাজিয়ে তোলার কথা ভেবেছেন। কাজরী দেবী জানিয়েছেন, মানুষের পাশে সকাল ৯ থেকে রাত ৯ টা নয়, ২৪ ঘণ্টা পাশে থাকতে ওই ওয়ার্ডে চালু হবে হেল্পলাইন নাম্বার। ৭৮৯০৭৮৯০০১ নাম্বারে যে কোনো সমস্যা নিয়ে যে কোনো মুহূর্তে ফোন করা যাবে।
গতবারের পর এবার ফের ডেপুটি মেয়র হয়েছেন অতীন ঘোষ। পরিকল্পনা হয়েছে আগামী ৫ বছরের কাজের। ঠিক কোন পন্থায় কাজ করবেন, কিভাবে এগোবে কাজ, কোন রূপরেখা বানিয়ে কাজ হবে ৫ বছরের লক্ষ্যে সেসব নিয়ে শুরু করেছেন ভাবনা চিন্তা, তবে ২০২১ এ শপথ নিতে এসে তিনি স্মৃতি হাতড়াচ্ছিলেন ১৯৮৫ সালের। সরকার পক্ষ ৭১ এবং বিরোধী পক্ষ ৭০ আসন জিতে শপথ গ্রহণে এসেছিল, সেদিনের উত্তেজনা, উত্তাপ আজ সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় খুঁজে পাননি নতুন ডেপুটি মেয়র। তবে আগের মতই সব সামলাবেন বলেই জানিয়েছেন।
অরিজিৎ দাস ঠাকুর যাদবপুর থেকে জিতেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর মুখেও বারবার শোনা গিয়েছে কর্পোরেট জগৎ থেকে রাজনীতিতে আসা তাঁর কথা, এবার নিজের ওয়ার্ডে কাজ করতে নমাবেন তিনি। প্রাথমিক কাজ হিসেবে দেখছেন ওয়ার্ডে পরিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, তাছাড়া লাইট, রাস্তাঘাট সংস্কারের কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। এতোদিন কাজের সূত্রে সীমিত জায়গার ওপর কাজ করতেন এবার পাবলিক ডোমেনে দাঁড়িয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে অপেক্ষা করছেন তিনি।

