Sukanta, BJP, সামনেই পুরোভোট, দলকে আরো বেশি মজবুত করতে একাধিক কড়া বার্তা সুকান্ত মজুমদারের

আমাদের ভারত, ১১ অক্টোবর: চলতি বছরে পুজোর পরেই কলকাতায় পৌরসভার নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে গোছাতে একাধিক পরামর্শ তথা নির্দেশ দিলেন প্রাক্তন রাজ্য বিজেপির সভাপতি। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনসংযোগ বাড়ানো থেকে বুথ কমিটি গঠন এবং পুজোকে প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিতে বললেন পদ্মনেতা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার তোলাবাজি নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

প্রতি বুথে ২১ জনের কমিটি তৈরীর নির্দেশ দেওয়া হলেও সেই কাজ এখনো অর্ধেক জায়গায় সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানা যাচ্ছে। কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, পর্যাপ্ত লোকের অভাবে কমিটি গঠনের কাজ এগোচ্ছে না। বুথ সভাপতির বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগ নিয়েও সতর্ক করেছেন সুকান্ত মজুমদার। পদাধিকারীদের পরিবর্তন করা সম্ভব না হলে নতুনদের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনে অন্য দায়িত্বে বসিয়ে কাজ করানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে ব্যক্তি কেন্দ্রিক নয়, দলগত ভাবে কাজ করতে হবে। কোনো ব্যক্তির অনৈতিক কাজের কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হলে তা বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।

পুজো কিংবা রক্তদান শিবিরের নামে টাকা তোলার অভিযোগ নিয়েও কড়া অবস্থান নেন তিনি। তোলাবাজির প্রমাণ থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি দল থেকে বহিষ্কারের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। প্রয়োজনে কোনো পুজো বা রক্তদান শিবির না হলেও চলবে, কিন্তু দলের নামে অনৈতিকভাবে টাকা তোলা চলবে না বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

পুরসভা নির্বাচনের প্রচারে পুজোকে কাজে লাগানোর উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পুজো মণ্ডপের বাইরে বিজেপির স্টল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু স্টলের নামে কোনরকম তোলাবাজি যাতে না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সর্বক্ষণ কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে ফাঁকা স্টলের ছবি তুলে বিরোধীরা সমাজ মাধ্যমে ভুল প্রচার করতে না পারে।

এছাড়া ওয়ার্ড ভিত্তিক প্রচারে সাধারণ মানুষের কাছে অ্যাপের ব্যবহারের উপযোগিতা তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুজোর পর বিজয়া সম্মিলনীর মাধ্যমেও জনসংযোগ বাড়াতে চাইছে বিজেপি। দলে সরকারের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে লিফলেট ছাপানো হবে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এলাকার বুদ্ধিজীবীদের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনা যেসব মহিলারা পাচ্ছেন তাদের নিয়ে বিজয়া সম্মেলনি করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া বিধানসভা ভিত্তিক দলীয় পদাধিকারীদের মধ্যে সমন্বয়ে অভাবের বিষয়টি নজরে এসেছে। নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতির কারণে সংগঠনের কাজে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলেও আলোচনা হয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচনের আগে একে অপরের সঙ্গে যেন সমন্বয়ে বজায় থাকে সেদিকে নজর দিতে হবে, এমনটাই জানিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *