পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১১ অক্টোবর: গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে সামাজিক দায়িত্ব পালনের অন্যতম পুরোধা, অধ্যাপক জগবন্ধু অধিকারীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সমবেত হয়েছিলেন উনার সহকর্মী, ছাত্র- ছাত্রী সহ অসংখ্য নাগরিক। বয়সের ভার তাঁর বলিষ্ঠতাকে এতোটুকু দমাতে পারেনি। জগবন্ধু বাবুকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করলেন বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, ছাত্র যুব মহিলা সহ বিভিন্ন অংশের মানুষজন।
অধ্যাপক জগবন্ধু অধিকারী সংবর্ধনা কমিটির পক্ষ থেকে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক জ্ঞানেন্দ্রনাথ ভুঁইঞা। কমিটির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক, মানপত্র, উত্তরীয়, গুরুত্বপূর্ণ পুস্তক দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। বক্তব্য রাখেন কমিটির সম্পাদক অধ্যাপক দেবাশীষ আইচ।বিপ্লবী বিমল দাশগুপ্ত স্মৃতি রক্ষা কমিটির সম্পাদক পঞ্চানন প্রধান, শহিদ ক্ষুদিরাম জন্ম শতবর্ষ কমিটির রাজ্য সম্পাদক শ্রী সৌমেন বসু, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক অমল মাইতি, পৌর প্রধান সৌমেন খান, বিধায়ক দীনেন রায়, মেদিনীপুর কলেজ প্রাক্তনী সম্মিলনীর পক্ষে কুনাল ব্যানার্জি, ডাক্তার গোলক বিহারী মাঝি, দীপক বসু, অধ্যাপক ও সাংবাদিক কুমারেশ ঘোষ প্রমুখ।
সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অধ্যাপক অধিকারীর ভূমিকা, শিক্ষা আন্দোলনের তাঁর দৃঢ় চিত্ততা, দেশের তথা এ রাজ্যের নানান শিক্ষা সংহারক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী এই মানুষটির শোষিত অত্যাচারিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনা গভীর আবেগের সঙ্গে স্মৃতিচারণ করেন।
সংবর্ধনার প্রতি- সম্ভষণে অধ্যাপক অধিকারী আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁর জীবনের যতটুকু পেরেছেন তা সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্মৃতিচারণ করে বলেন, “শিক্ষক হিসেবে মেদিনীপুর কলেজের অধ্যক্ষ পি.এন ঘোষকে গভীর শ্রদ্ধা করি। জীবনে চলবার পথে দিশা হিসেবে পেডি নিধনযজ্ঞের নায়ক বীর বিপ্লবী বিমল দাসগুপ্তের জীবন ও সংগ্রাম ও তার নির্দেশ মেনে চলবার চেষ্টা করেছি। আজকের এই সংবর্ধনা সভায় আপনাদের আবেগ আমাকে গভীর ভাবে স্পর্শ করেছে। আমি এখন থেকে নতুন ভাবে পথ চলবার চেষ্টা করবো। সঙ্গে চূড়ান্ত অসুস্থ অবস্থায়ও তাঁর সহধর্মিনী উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন পরিবারের অন্যান্য সকল সদস্যরাও। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক উত্তম প্রধান।

