আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২২ মে: রবিবার বিকেলে ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদের বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়া পাকা হতেই অর্জুন সিং’য়ের বাসভবন ও মজদুর ভবনের সামনের পরিস্থিতি ক্রমশ বদলাতে শুরু করলো। এদিন দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই সাংসদের বাড়ির সামনে গেরুয়া রঙের পদ্ম আঁকা বিজেপির দলীয় পতাকার রং ক্রমশ ফিকে হতে থাকে। অর্জুন সিং’য়ের কার্যালয়ের কর্মীরা একে একে অর্জুন সিংয়ের বাড়ি ও বাড়ির সামনে টাঙ্গানো বিজেপির পতাকা খুলে দিতে শুরু করেন। আর এই দৃশ্য দেখে সকলে বুঝে যান যে অর্জুন সিং’য়ের তৃণমূলে ফেরা শুধু এখন সময়ের অপেক্ষা।

সন্ধ্যা হতেই অর্জুন সিং’য়ের কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকরা। সেই সঙ্গে এতো দিন যারা অর্জুন সিং’য়ের সাথে বিজেপি করছিলেন তাদের দেখা গেলো অর্জুন সিংকে অনুসরণ করে তৃণমূলে চলে আসতে। তার কার্যালয় ফের সেজে উঠতে শুরু করলো তৃণমূলের পতাকায়। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে বিজেপির পতাকা বিরাজ করছিল, কিছু সময়ের তফাতে সেই জায়গায় তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে দিলেন কর্মীরা। এদিন সকালে নিজের বাসভবন থেকে কলকাতার উদ্যেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তার দল বদল করার জল্পনাকে উস্কে দিয়ে বলে গেলেন কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। সময় যত এগোবে সব সামনে আসতে থাকবে। তিনি শুধু যাবার সময় বলে গেলেন, “আমি একটা বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছি। যে বৈঠক করবো তাতে রাজ্যে উন্নয়ন হবে, ভালো হবে। কেন্দ্রের সাথে অনেক আলোচনা করেছি তাদের অনেক সময় দিয়েছি এবার রাজ্যের সাথেও একটু বৈঠক করি।” আর এই কথাই বুঝিয়ে দিল যে বিজেপি সাংসদের দল পরিবর্তন করা শুধু সময়ের অপেক্ষা।
যেমন কথা তেমন কাজ। বেলা বাড়তেই সাংসদ অর্জুন সিংয়ের বিজেপি ছাড়ার জল্পনা বাস্তব হয়ে গেলো। অর্জুনবাবুর কলকাতা যাওয়ার সময় তাকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন প্রচুর কর্মী সমর্থকরা। আর বিকেল হতেই তারাই মালা মিষ্টি নিয়ে আবার মজদুর ভবনের সামনে হাজির হয়ে গেলেন। সেইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর যে নিরাপত্তা বলয় বেষ্টিত ছিল অর্জুন সিং ও তার বাস ভবন ক্রমেই সেই নিরাপত্তা বলয় দুর্বল হয়ে তার জায়গা নিতে থাকল রাজ্য পুলিশ। অর্জুন সিংয়ের তৃণমূলে ফিরে আসার সংবাদে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা বাজি ফাটাতে শুরু করে দেন। চলতে থাকে মিষ্টি মুখের পালা। তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীরা অনেকেই বলতে থাকেন, “আমরা আবার অর্জুন সিংকে আমাদের নেতা, আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক হিসেবে পাবো এটা খুবই আনন্দের বিষয়। তাই আমরা মিষ্টি মুখ করাচ্ছি।” অপর দিকে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে আবারো কিছুটা অভিভাবকহীন হয়ে পড়লো বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

