পুরুলিয়ায় উৎসবের রেশ ছট পূজায়

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১০ নভেম্বর: দুর্গা পূজা, কালী পূজার পরও উৎসবের রেশ থামতেই চায় না রাজ্যের প্রান্তিক জেলা পুরুলিয়ায়। কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতেই পুজোর মরসুম অব্যাহত জেলাজুড়ে। কার্তিক মাসের শুক্লা পক্ষের ষষ্ঠি তিথি মেনে অনুষ্ঠিত হয় সূর্য দেবের উদ্দেশ্যে বিশেষ অর্ঘ দান- ছট পরব। ধনতেরস থেকেই বাড়িতে বাড়িতে প্রস্তুতি শুরু হয়। আজ বিকেলে জেলার বিভিন্ন জলাশয়গুলিতে ধর্ম প্রাণ মানুষের ভিড় দেখা গিয়েছে। সূর্য ডোবার মূহূর্তে বিশেষ অর্ঘ নিবেদন করেন ব্রতীরা। বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের পর সেই আরাধনার সমাপ্তি ঘটবে- অর্ঘ নিবেদনের মধ্য দিয়ে।

ছট পূজার আয়োজকদের কথায়, পৃথিবীর প্রাণ সূর্য। জীবনের শক্তির উত্‍স সূর্য। মানুষের সব কিছুর কল্যাণে, সুস্বাস্থ্য, উন্নতি ও সুনামের কারক হল সূর্য। যে কারণে তাঁরা সূর্যকে দেবতা রূপে মেনে আসছেন। আর সূর্য দেবের পূজাই হল ছট উৎসব।

দুর্মূল্যের বাজারেও মানুষ তাঁদের সংস্কৃতি, রীতি ছাড়তে নারাজ। পুজোর উপকরণ যোগাড় করতে হিমসিম খেতে হয়েছে ছট পূজার আয়োজকদের। বাজারে ফল মূল এবং প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য অগ্নিগর্ভ হওয়াই এর অন্যতম বড় কারণ। কার্তিক পূজো, তার পরই জগদ্ধাত্রী পূজো। দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির রেখা চিত্রকে ছাপিয়ে গিয়ে উৎসব প্রেমী মানুষ পুজোর আয়োজন করেছেন আন্তরিকভাবে।

এদিকে, উৎসবের আবেগে মিশে গিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুরসভাগুলি। তারা পুজোর আচার করার জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলেছে বিভিন্ন জলাশয় ও নদী ঘাটগুলিতে। বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা পুলিশ।পুরুলিয়ার সাহেব বাঁধ, বুচা বাঁধ প্রভৃতি জলাশয়ে স্থানীয় পুরসভা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

ছট পূজার সমারোহ এতটাই যে পুরুলিয়া জেলা যেন এক টুকরো বিহার। ১৯৫৬ সালের ১ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গে অন্তর্ভুক্তি ঘটলেও এক সময় যে বিহারের অংশ এই জেলা তা ছট পূজাতেই বোঝা যায়। পূজায় হিন্দিভাষী বা বিহারীদের সঙ্গে পুজোর আয়োজনে যুক্ত হয়েছেন প্রায় সব ধর্মের মানুষ।তাই, প্রতিবারের মতো এবারেও জাঁকজমকভাবে ছট উৎসব পালিত হচ্ছে পুরুলিয়া জেলায়।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *