চলতি অর্থবর্ষে থেকেই ফের চালু হচ্ছে সাংসদদের নিজস্ব এলাকা উন্নয়ন তহবিল, সিদ্ধান্ত মোদী মন্ত্রিসভায়

আমাদের ভারত, ১০ নভেম্বর: প্রায় দু’বছর বন্ধ থাকার পর চলতি অর্থবর্ষে থেকেই আবার চালু হতে চলেছে সাংসদদের নিজস্ব এলাকায় উন্নয়ন তহবিল।‌ বুধবার মোদী মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অনুরাগ ঠাকুর জানিয়েছেন চলতি বছরে আংশিকভাবে এবং আগামী বছর থেকে ফের সম্পূর্ণ ভাবে সাংসদদের নিজস্ব এলাকায় উন্নয়নের টাকা দেওয়া হবে।

করোনা মহামারীর আঘাতে ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে দাঁড় করাতে ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে সাংসদদের নিজস্ব এলাকায় উন্নয়ন খাতের টাকা দেওয়া দু’বছরের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। পাশাপাশি সাংসদদের বেতন ভাতা ৩০% ছাঁটাই করা হয়েছিল। গতবছরের বাদল অধিবেশনে সংসদে এই সংক্রান্ত প্রস্তাব পাশ হয়েছিল। সেই টাকা পাঠানো হয় সংসদের স্থায়ী তহবিলে। এবার আবার সেই টাকা পেতে শুরু করবেন সাংসদরা।

অনুরাগ ঠাকুর জানান, ২০২১-২২ অর্থবর্ষ থেকেই এমপি কোটার টাকা পাবেন লোকসভা এবং রাজ্যসভার সাংসদরা। চলতি বছরের অবশিষ্ট অংশের জন্য এক কিস্তিতে দু’কোটি টাকা করে পাবেন সব সাংসদরা। আগামী বছর থেকেই ফের আগের মতো নিজস্ব এলাকার উন্নয়ন খাতে ৫ কোটি টাকা করে পাবেন সাংসদরা। সেই টাকা দেওয়া হবে দুই কিস্তিতে আড়াই কোটি টাকা করে, আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই হারে এই সাংসদ তহবিলের টাকা পাবেন সাংসদরা।

করোনা পরিস্থিতিতে এমপি কোটার টাকা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি বিরোধিতা করেনি কোনও রাজনৈতিক দল। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছিলেন বিরোধীরা। বিরোধী দল এবং রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে আলোচনা না করে একতরফা ভাবে সাংসদ কোটার টাকা বন্ধ করে দেওয়া গণতন্ত্র ও যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামো বিরোধী বলে অভিযোগ করেছিলেন তারা। তাদের বক্তব্য ছিল, এমপি কোটার টাকায় এলাকার মানুষের নৈতিক অধিকার। এভাবে সাধারণ মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। এই সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সাংসদরা নিজেদের এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রতিবছর ৫ কোটি টাকা করে পান।‌ দুই বছরে সাংসদ পিছু মোট ১০ কোটি টাকা করে জমা পড়েছে সরকারি তহবিলে। ফলে সরকারের ৭৯০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলতেই ফের সাংসদদের এলাকার উন্নয়নের টাকা দেওয়ার চালু করার সিদ্ধান্ত নিলো কেন্দ্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *