রাজেন রায়, কলকাতা, ৮ সেপ্টেম্বর: প্রথমবার ময়না তদন্তের রিপোর্ট দেওয়ার পর তাতে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন দাদা বিশ্বজিৎ সরকার। সে কারণে দেহ রেখে দেওয়া হয় আলিপুর কমান্ড হাসপাতালের মর্গে। কিন্তু দ্বিতীয়বার দেহ নিতে গিয়ে দেহে পচন ধরে যায়, আর তা চিনতে পারেননি তার দাদা। দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের এবং ডিএনএ পরীক্ষার জন্য তিনি আবেদন করেন আদালতে। অবশেষে চারমাস পরে এল সেই ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিনই মৃত্যু হয়েছিল বেলেঘাটার বাসিন্দা, বিজেপি কর্মী অভিজিতের। চার মাস ধরে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট না পাওয়ায় নিশ্চিত হতে পারেনি পরিবার। তাই সৎকারও করা হয়নি সেই দেহ। অবশেষে পরিবারের আবেদনে সেই দেহের ডিএনএ রিপোর্ট পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিল আদালত। জানা গিয়েছে, অভিজিতের দাদা বিশ্বজিতের সঙ্গে সম্পূর্ণ মিলে গিয়েছে এই রিপোর্ট।
ভাই অভিজিৎ সরকারের দেহের ডিএনএ রিপোর্ট, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও দেহ চেয়ে শিয়ালদা আদালতে আবেদন করেছিলেন তাঁর দাদা বিশ্বজিৎ সরকার। আদালতের তরফে এরপর সিবিআই-এর মতামত জানতে চাওয়া হয়। আজ শুনানিতে রিপোর্ট সহ হাজিরা দিতে বলা হয়। এ দিন সিবিআই ওই সব রিপোর্ট ও দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার অনুমতি দেয়। ডিএনএ ও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এ দিন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। এত দিন পর্যন্ত সিবিআইয়ের কাছেই ছিল সেই রিপোর্ট। পাশপাশি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে অভিজিতের দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এ দিন শুনানি শেষে আইনজীবী প্রিয়াঙ্কা তিবরেওয়াল জানিয়েছেন, দাদা বিশ্বজিতের সঙ্গে মৃতদেহের ডিএনএ মিলে গিয়েছে। তাই দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এবার অভিজিতের দেহ সৎকার করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পরিবার। অভিজিতের দাদা বিশ্বজিৎ জানিয়েছেন, এত দিন ধরে তাঁরা যে লড়াই লড়ছেন, তাতে একটা সাফল্য মিলেছে। সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এত দিন পরে ভাইয়ের দেহ পাবেন বলে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে সব দোষীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্বজিৎ সরকার।

