ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে ৭ ঘন্টা অপারেশন করে দৃষ্টান্ত রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১৯ অক্টোবর: ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতি হল ক্যামেরা ও ভিডিও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে, যা শল্যচিকিৎসার এক অতি আধুনিক ও উন্নতমানের কৌশল। এক্ষেত্রে সাধারণ পদ্ধতিতে রোগীর পেট কেটে কষ্টদায়ক অস্ত্রোপচার করার প্রয়োজন হয় না। রোগীকে অজ্ঞান করে দেহে লম্বা ছেদ করে সরাসরি নির্দিষ্ট স্থানে সূক্ষ্ম ভিডিও ও অস্ত্রোপচারের নলাকার যন্ত্র দিয়ে একটি ক্ষুদ্র ছিদ্রের মাধ্যমে শরীরে ঢুকিয়ে অপারেশন করা হয়। এই ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে প্রায় ৭ ঘন্টা অপারেশন করে দৃষ্টান্ত তৈরী করলো রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। ক্যান্সার আক্রান্ত এক রোগীর পায়ুনালী কেটে বাদ দিয়ে নতুন করে পায়ুদ্বার তৈরী করলো সার্জিকাল চিকিৎসকদের একটি টিম।

বীরভূমের মাড়গ্রাম থানার ভোল্লা ক্যানেল মোড় এলাকার বাসিন্দা অম্বিকা বিবির ছয় মাস ধরে পেটে ব্যাথা। মাস দুয়েক থেকে রক্তক্ষরণ আরম্ভ হয় পায়ুদ্বার থেকে। তারপর দুশ্চিন্তায় পরে যায় পরিবার। ডাক্তার জানায় বড় ধরনের একটি অপারেশন করতে হবে। খরচ কয়েক লক্ষ টাকা। তারপর স্বামী সবুল শেখ তাঁকে ভর্তি করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই মঙ্গলবার বেলা ১১ টা থেকে শুরু হয় ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে অপারেশন। প্রায় ৭ ঘন্টা অপারেশনের পর সফল হন রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা।

অ্যাসিন্টান্ট প্রফেসার ডাঃ সাদাক্কাশ আলি, সার্জিকাল ডিপার্টমেন্টের চিকিৎসক অভিষেক ঘোষ, ডাঃ সফিউল্লা শেখ, অ্যানেস্থাসিয়া ডিপার্টমেন্টের চিকিৎসক অনিমেষ চক্রবর্তী সহ মোট ১২ জন চিকিৎসক এই অপারেশনে অংশ নেয়। সাদক্কাশ আলি বলেন, “অম্বিয়া বিবি নামে এক মহিলার মলদ্বারে ক্যান্সার হয়। আগে এই অপারেশনটা পেট কেটে করতে হতো। যাতে রোগীর অনেক শারিরীক ক্ষতি হতো। আমরা ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে এই অপারেশনটা করি। আমার জানা নেই আমাদের রাজ্যে ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতি যাকে মাইক্রোসার্জারি বলা হয় এই পদ্ধতিতে এতো বড় অপারেশন কোথাও হয়েছে কী না। আমরা খুবই খুশি যে এত আধুনিক পদ্ধতিতে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এটা করতে পেরেছি। রোগী এখন সুস্থ আছে। আমরা অপারেশনের একদিন পরই তাকে খাবার দিতে পেরেছি।”

রোগীর স্বামী সুবুল শেখ বলেন, “চাষবাস করে সংসার চলে। এত টাকা খরচের অপারেশন ডাক্তার বাবুরা করে দিলেন। আমি খুবই খুশি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *