অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৪ ফেব্রুয়ারি: বুধবার থেকে স্কুলে প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণি শুরুর ঘোষণাকে স্বাগত জানাল বিভিন্ন শিক্ষক-সমিতি।
উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সন্দীপ ঘোষ ও সম্পাদক ভাস্কর ঘোষ সোমবার এই প্রতিবেদককে জানান, “গত দু’বছরে শিক্ষার্থীদের প্রচুর ক্ষতি হয়ে গেছে। সংবাদ মাধ্যমে শুনলাম স্কুল খোলার খবর। অর্ডার হাতে পেলে সবটা স্পষ্ট হবে। তবে বড় দেরিতে হলেও রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ অবশ্যই জানাবো। পাড়ায় শিক্ষালয় একটি ভুল পরিকল্পনা ছিল। আন্দোলনের পাশাপাশি যার জন্য আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আদালতের দ্বারস্থ হই। আজ শুনানি থাকলেও তা হয়নি। অন্যান্য অনেক সংগঠন, অভিভাবক, ছাত্রছাত্রীরাও এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন নিরবিচ্ছিন্নভাবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে শিক্ষা আন্দোলনের সাথে যুক্ত সকলের জয় হল।”
পশ্চিমবঙ্গ কলেজ ক্যাজুয়াল এমপ্লয়িজ সমিতির রাজ্য সহ সভাপতি তথা পিংলা থানা মহাবিদ্যালয়ের
শিক্ষাকর্মী সব্যসাচী গুছাইত এই প্রতিবেদককে বলেন, “আগামী বুধবার থেকে শুরু হবে স্কুলের প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণির ক্লাস। রাজ্য সরকারের এ হেন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। রাজ্যে যেখানে মেলা খেলা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ উঠে যায়, সেখানে করোনার অজুহাতে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাবস্থাকে আর বন্ধ না রাখার সিদ্ধান্ত যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক।”
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সঙ্ঘের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপী প্রামাণিক এই প্রতিবেদককে বলেন, “প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণির বিদ্যালয়ে পঠন পাঠন শুরু করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোর শিক্ষক বদলি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সঠিক যোজনা না করলে বিদ্যালয় পরিচালনা করা কঠিন। কারণ অসংখ্য বিদ্যালয় এক শিক্ষক ও শিক্ষক শূন্য অবস্থায় রয়েছে, সেজন্য করোনা বিধি অনুযায়ী পঠন পাঠন শুরু করতে হলে এই বিষয় ভাবতে হবে।”
সারা বাংলা সেভ এডুকেশন কমিটির সম্পাদক তরুণকান্তি নস্কর এই প্রতিবেদককে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বুধবার থেকে প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল খোলার যে সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার নিয়েছে তাকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা বলতে চাই এটা সেভ এডুকেশন কমিটি সহ শিক্ষক, ছাত্র, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগী মানুষের আন্দোলনের চাপেই সম্ভব হয়েছে।

