আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১০ ফেব্রুয়ারি: ব্যারাকপুরের প্রতারণার ছায়া এবার ভাটপাড়ায়। মান বাঁচাতে প্রায় ষাট হাজার টাকা দিয়েও নিষ্কৃতি পাচ্ছেন না শিক্ষক। এবার দাবি পাঁচ লাখ টাকা। ঘটনায় আতঙ্কিত পুরো পরিবার।
দেড় মাস আগে হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ আছে। সেই মেসেজের লিঙ্ক খুলতেই বিপত্তি। ভাটপাড়া থানার কুতুবপুরের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক তিলক রাজ ঘোষের কাছে মেসেজ এবং ফোন করে বলা হয় যে তিনি লোন নিয়েছেন এবং সেই লোন দু’ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। ব্যাপারটাকে আমল দেননি পেশায় শিক্ষক তিলক রাজ ঘোষ।
এরপরে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করতে শুরু করে এবং তাকে রীতিমত ভয় দেখানো হয়, এমনকি তার ব্যাঙ্কের ডিটেলস আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, সবই তাদের কাছে আছে এমনটাই জানানো হয়। তিলক বাবু ভয়ে টাকা দিতে শুরু করেন এবং এক মাসের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার টাকার কাছাকাছি তিনি দিয়ে দেন। এরপর তিনি টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন। তখনই ফোনের কনট্রাক্ট লিস্ট দেখে স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক ও আত্মীয়-স্বজনদের ফোন করে বলা হচ্ছে, লোন নিয়েছেন। কিন্তু টাকা পরিশোধ করছেন না। যেসব হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার থেকে তার কাছে কল আসছে সেগুলো তিনি যখন দেখেন সেই ডিপি গুলিতে হয় পুলিশের ছবি না হলে সেন্ট্রাল ডিটেকটিভ অফিসের ছবি। এইসব লাগানো আছে, এতে আরও ভয় বেড়ে যায়। এরপর তিনি যখন টাকা দেওয়া বন্ধ করেন তখন তার আত্মীয়স্বজন এমনকি তার অফিসের কলিগদের ফোন করা হয়। বলা হয় তিলক বাবু লোন নিয়েছেন তার গ্যারান্টার আপনারা তিনি যদি টাকা না দেন তাহলে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে, টাকা কেটে নেওয়া হবে। এরপর বাধ্য হয়েই তিনি বৃহস্পতিবার ভাটপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আতঙ্কিত শিক্ষক তিলক রাজ ঘোষ বলেন, পুরো ব্ল্যাকমেইল করে তার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছে। সাইবার প্রতারণা চক্রের উৎপাতে আতঙ্কিত শিক্ষক পরিবার।

