সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৭ মে: ঝালদা পুরনো থানায় আগুন লাগার ঘটনায় অভিযুক্ত ঝালদা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর বিপ্লব কয়াল পুরুলিয়া জেলা আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন। আজ সকালেই জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো ও কংগ্রেস দলের সমর্থকরা বিপ্লবকে নিয়ে জেলা আদালতের মুখ্য বিচার বিভাগীয় বিচারকের (চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের) এজলাসে উপস্থিত হন। তাকে ৩১মে পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।
এপ্রিল মাসের ১১ তারিখে সকাল ১১ টার সময় পুরনো ঝালদা থানায় আগুন লাগে। থানা চত্বরে থাকা প্রায় ৪০টি বাজেয়াপ্ত করা মোটর সাইকেল আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। পুলিশের অভিযোগ আগুন লাগার কয়েক মিনিট আগে থানার পাশ দিয়ে অন্নপূর্ণার শোভা যাত্রা যায়। সেই শোভাযাত্রায় বাজি ফাটানো হচ্ছিল। সেই বাজি থেকেই থানায় আগুন লাগে। পুলিশ একটি সুয়োমটো মামলা রুজু করে। সেই মামলায় শোভা যাত্রায় থাকা কংগ্রেস কাউন্সিলর বিপ্লব কয়াল সহ ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত করা হয় কংগ্রেস কাউন্সিলর বিপ্লব কয়ালকে। জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করে ঝালদা থানার পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই তিনি গা ঢাকা দেন।
এর মাঝেই জেলা ও হাইকোর্টে অগ্রিম জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। জামিন না মেলায় আজ জেলা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। যদিও বিপ্লববাবুর দাবি যেহেতু কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুর খুনের ঘটনায় তিনি সিবিআই তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছিলেন তাই তাঁকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে।
জেলা সভাপতি নেপাল মাহাতো বলেন, “আমরা বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখেছি। যদিও পুলিশ প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে বিপ্লবের নামে বেশ কয়েকটি মামলা করে। বিপ্লব যে নির্দোষ তা প্রমাণ হবে।”
এই ব্যাপারে বরিষ্ঠ তৃণমূল নেতা তথা পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় ব্যানার্জি বলেন, “আইন আইনের পথে চলবে। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে পুলিশ কেন ওই মামলা করবে? ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবং তদন্তে যা উঠে এসেছে তারই জেরে এই মামলা হয়েছে।”

