আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ২৪ মার্চ: বগটুই গ্রামে গিয়ে মৃতদের পরিবারকে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ হিসাবে এক লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের হাতে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে হেলিকপ্টারে করে রামপুরহাটে আসেন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। রামপুরহাটের নিশ্চিন্তপুরে সেচপল্লির হেলিপ্যাডে নামেন। সেখান থেকে সোজা চলে যান সার্কিট হাউসে। সার্কিট হাউস থেকে দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বগটুই গ্রামে পৌঁছে যান। গ্রামে পৌঁছে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। এরপরেই দলের রামপুরহাট ১ নম্বর ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেনকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলির হাতে একলক্ষ টাকা করে চেক তুলে দেন। ক্ষতিগ্রস্থদের দাবি মেনে আরও এক লক্ষ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। মৃতদের পরিবার পিছু পাঁচ লক্ষ টাকা ও একজন করে চাকরি দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি ছিল। যাদের যাদের কর্তব্যে গাফিলতি রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এই নির্দেশের পর রামপুরহাট থানার আইসি ত্রিদিপ প্রামানিককে সাসপেন্ড করা হয়। ব্যবস্থা নেওয়া হয় মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সায়ন আহমেদের বিরুদ্ধেও”। এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আমি ভাবতে পারিনি এমন নৃশংসতা ঘটতে পারে কখনও। সারা বিশ্বে যুদ্ধ চলছে আর এখানে মানুষ খুন হচ্ছে কয়েক জনের জন্য। ভাদু খুন হওয়ার পরেও যারা জেনে শুনে পদক্ষেপ নেননি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের শাস্তি হবে। দুটো ঘটনাকেই আমি খারাপ চোখে দেখছি। দুটি ঘটনারই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ নিরাপত্তা দেয়নি। এমনকি এখনও গ্রামে সমস্ত নিহতদের পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে হবে”। মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে নির্দেশ দেন অবিলম্বে সারা বাংলা থেকে বোমা, গুলি উদ্ধার করতে হবে।

