রাজেন রায়, কলকাতা, ২৬ জুলাই: পেগাসাস কাণ্ড যে রাজ্য সরকার খুব সহজ ভাবে নিচ্ছে না, আগেই বোঝা গিয়েছিল। এবার এই কাণ্ডে দুই সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করল রাজ্য৷ তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এমভি লকুর, দ্বিতীয়জন কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য৷ কীভাবে ফোন হ্যাকিং হয়েছে, কার কার ফোন হ্যাক করা হয়েছে তাঁরা খতিয়ে দেখবেন৷ সোমবার দিল্লি যাওয়ার আগে নবান্নে এই কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, বিজেপি সরকারের ‘স্পাইগিরি’ বন্ধ করতে তিনি ফোনের ক্যামেরায় লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে রেখেছেন৷ মন্ত্রীদেরও সতর্ক করে দেন তিনি৷ কথা বলার জন্য মন্ত্রীদের নোকিয়া বা স্যামসংয়ের পুরোনো মডেলের ফোন ব্যবহারের নিদান দেন৷
আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোন শুধু মাত্র শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য ব্যবহার করতে বলেছেন৷ দল বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কথা দামি ফোনে করতে বারণ করেছেন৷ খুব জরুরি কথা হলে সামনে ডেকে বলতে বলা হয়েছে৷
এর পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল পেগাসাসকাণ্ড নিয়ে। আইনজীবী এমএল শর্মা ইজরায়েলি স্পাইওয়্যার পেগাসাসের মাধ্যমে দেশের নেতা-মন্ত্রী থেকে ও সাংবাদিকদের মোবাইলে নজরদারি চালানো নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। বিশ্বের ১৭টি সংবাদ সংস্থা তদন্ত চালিয়ে প্রায় ৫০ হাজার ফোন নম্বরের তথ্যভান্ডার প্রকাশ্যে এনেছে পেগাসাস। এই নম্বর গুলিতে ইজরায়েলি সংস্থা এনএসও-র তৈরি সফটওয়্যারের মাধ্যমে আড়ি পাতা হয়েছে বলে অভিযোগ। গোটা প্রক্রিয়াটা সরকারই করেছে বলে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

