“অপদার্থতার পরিচয় দিয়েছেন প্রশাসনিক প্রধান, তাই মু্খ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব রাজ্যপাল পালন করছেন,” বললেন সুকান্ত

আমাদের ভারত, ৭ জুলাই: রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটের শুরু থেকেই হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে একাধিক জায়গায়। প্রায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ভোটকে ঘিরে। এই সব শোনার পর একেবারে গ্রাউন্ড জিরোতে গিয়ে আক্রান্ত ও নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে রাজ্যপাল পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এই পদক্ষেপকে রাজ্যের শাসক দল ভালোভাবে নেয়নি। তাদের অভিযোগ, রাজ্যপাল বিজেপির এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসকে আজ এর পাল্টা দিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, অপদার্থতার পরিচয় দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাই মু্খ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব রাজ্যপাল পালন করছেন।

সুকান্ত মজুমদার ভোটকে কেন্দ্র করে রাজ্যের একাধিক জায়গায় হিংসাত্মক ঘটনার বিরুদ্ধে রাজ্যপালের নেওয়া পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, যে কাজ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের করা উচিত ছিল সেটা তিনি না করায় সেই দায়িত্ব নিতে বাধ্য হয়েছেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। আজ কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “রাজ্যপাল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটি সাহসী সিদ্ধান্ত, অন্য ধরনের সিদ্ধান্ত। এতে হিংসা কতটা কমবে আমার জানা নেই, তবে আর যাই হোক পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে একটু তৎপরতা আসবে এবং সাধারণ মানুষ একটু আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে। তারা আত্মবিশ্বাস পাবে যে সাংবিধানিক প্রধান অন্তত তাদের সাথে আছে। প্রশাসনিক প্রধান নেই তার যাওয়ার কথা।”

সুকান্ত দাবি করেন, “রাজ্যপাল যে কাজ করছেন সেই কাজ মুখ্যমন্ত্রীর করার কথা ছিল। কিন্তু উনি করতে পারেননি। প্রশাসনিক প্রধান যদি অপদার্থতার পরিচয় দেন সাংবিধানিক প্রধান তার দায়িত্ব নিয়েছেন।”

তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে, রাজ্যপাল বিরোধীদের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে, তা বলতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আজ রাজ্যপাল তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর বাড়িতে গেছেন। এর আগে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর বাবা মারা গিয়েছিলেন, সেখানে গিয়েছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস তৃণমূল কংগ্রেসকে মারছে সেখানেও রাজ্যপাল খোঁজ খবর নিচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায় বলছি চোখে নেবা হওয়ায় তা দেখতে পাচ্ছেন না।”

অন্যদিকে তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ রাজ্যপালের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। তার পাল্টা দিতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন,
“কুনালবাবু জানেন না, আজ তৃণমূল কংগ্রেসের যে কর্মী মুর্শিদাবাদের খুন হয়েছে তার বাড়িতে রাজ্যপাল গেছেন। সমস্যা হচ্ছে কুনালবাবুর, মুখটাই কলুষিত। সেই কারণেই তিনি সবকিছুকে কলুষিত বলতে পারেন। আপাতত ওনার মুখটাকে পরিষ্কার করতে বলুন বাকিটা নিজেই পরিষ্কার দেখতে পাবেন।

রাজ্যপালকে বিজেপির এজেন্ট বলার প্রেক্ষিতে হিসেব কষে সুকান্ত মজুমদার বুঝিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যপাল একজন সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভাঙড়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভাঙড়ে সন্ত্রাসের কারণে বিজেপি নিচু তলায় প্রার্থী দিতে পারেনি। ওখানে যে মারপিট হয়েছে তা আই এস এফ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে হয়েছে। আরাবুল শওকত আরাবুলের ছেলে তারা একদিকে, উল্টোদিকে নওশাদ সিদ্দিকী ও কোম্পানি। স্বাভাবিকভাবে এর মধ্যে বিজেপিকে কেন টানছে আরাবুল বা রাজ্যপালকে কেন বিজেপি এজেন্ট বলছে জানা নেই। তবে এটা ঠিক আরাবুলের মত ভয়ংকর এলিমেন্ট প্রচুর পরিমাণে তৃণমূল কংগ্রেসে রয়েছে, যারা ৫০ কেন ৫০০ জন কেউ খুন করতে পারে। এই ধরনের মানুষকে রাজনীতিতে রাখার কোনো জায়গা নেই। এদের জায়গা জেলে। অন্য দেশ হলে ফাঁসি দিয়ে দিত কিংবা এনকাউন্টার করে মেরে দিত। তাঁর দাবি, উত্তর প্রদেশ হলেই এনকাউন্টার হয়ে যেত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেই এদের জন্য মরুদ্দ্যান করে রেখেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *