আমাদের ভারত, ১৭ মে: ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠেছে ১০০ দিনের কাজ নিয়ে। তাই ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতির মোকাবিলা করতে কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে এই কাজে যারা যোগ দেবেন সেইসব শ্রমিকদের কেন্দ্রীয় সরকারি অ্যাপে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হলো। এই অ্যাপে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে উপস্থিতি থাকলে তবেই সেই শ্রমিক পারিশ্রমিক পাবে।
সোমবার থেকেই এই নিয়ম চালু করা হয়েছে। দেশের সব রাজ্যকেই এই বিষয়ে চিঠি দিয়ে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেইমতো বিডিও অফিস গুলিতেও কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল মোবাইল মনিটরিং সিস্টেম অ্যাপের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি দিতে হবে। খাতায় লিখে হাজিরা দিলে তা আর গণ্য করা হবে না। সম্প্রতি ১০০ দিনের কাজের খাতে রাজ্যের পাওনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও কেন ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে আছে, সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় অডিট টিমের অডিটে রাজ্যে ১০০ দিনের কাজে বিপুল দুর্নীতি ধরা পড়েছে। সেই কারণে টাকা আটকে আছে।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী চিঠি দেওয়ার পরেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ এনে পাল্টা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রসঙ্গত এই ঘটনার পরেই কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পে নানা সময় নানা দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তাই গত মার্চ মাসে এই নিয়ে বৈঠক হয় কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকে। সেখানেই ঠিক হয় যেসব জায়গায় কুড়ি বা তার বেশি শ্রমিক ১০০ দিনের কাজে যুক্ত রয়েছেন, সেখানে এই অ্যাপের মাধ্যমে হাজিরা নথিভুক্ত করতে হবে। আগে বিষয়টি ঐচ্ছিক থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকার এবার বিষয়টিকে বাধ্যতামূলক করতে বদ্ধ পরিকর। কারণ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই ১০০ দিনের কাজ নিয়ে প্রচুর অভিযোগ আছে। জব কার্ড তৈরি, শ্রমিকদের বেতন থেকে কাটমানি নেওয়া, উপস্থিত না থেকেও শ্রমিকদের বেতন পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আবার শাসকদলের সমর্থক লোকরা কাজ পাচ্ছে, সুযোগ পাচ্ছে না বিরোধী দলের সর্মথক লোকেরা। কোথাও আবার একই কাজ দেখিয়ে বার বার করে বেতন নেওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে। গ্রাম উন্নয়ন মন্ত্রক তাই দেরি না করে সোমবার থেকে ১০০ দিনের কাজে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করল।

