আমাদের ভারত, ৫ আগস্ট: বহু প্রতিক্ষিত ডিলিমিটেশন বিল ও মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস নিয়ে ইতিমধ্যেই সংসদীয় রাজনীতিতে উথাল পাথাল পরিস্থিতি। তার মধ্যেই বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র সরকার। জানা গিয়েছে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিল পাসের লক্ষ্যে আগামী ১৬ থেকে ১৮ আগস্ট, তিন দিনের একটি বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন ডাকার প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু এই প্রস্তাবে বিরোধী দলগুলির অবস্থান কী হবে সেদিকেই নজর সকলের।
সূত্রের খবর, দেশের আইনসভা ও বিধানসভা গুলিতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিষয়টিকে আইনি রূপ দেওয়ার পাশাপাশি ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতেই এই বিশেষ অধিবেশন ডাকার পরিকল্পনা করা হয়েছে।বিষয়টির সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে সরকার চাইছে সংক্ষিপ্ত এই তিন দিনের অধিবেশনে বিল দুটির উপর বিশেষ আলোচনা ও ভোটাভুটি শেষ করতে।
কেন্দ্রের তরফ থেকে প্রস্তাবটি বিরোধী দল গুলির কাছে পাঠানো হলেও বিরোধীরা এখনো পর্যন্ত তাদের কোনো মতামত জানায়নি। তার মধ্যে কেন্দ্রের প্রস্তাবিত তিন দিনের এই সংক্ষিপ্ত সময়ে বিলের খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর্যাপ্ত সুযোগ থাকবে কি না তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে বিরোধীদের মধ্যে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে মহিলা সংরক্ষণ এবং ডিলিমিটেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলিতে সরাসরি বিরোধিতা করা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে সহজ নয়। তবে প্রস্তাবের টাইমিং এবং অধিবেশনের সময়সীমা নিয়ে সরকার এবং বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে তরজা তৈরি হতে পারে।
মহিলা সংরক্ষণ বিলটি ভারতীয় রাজনীতিতে বহুদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভা গুলিতে মহিলাদের সমান প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করতে এটি কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে সব পক্ষই। তবে তার সাথে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ার বিষয়টি যুক্ত থাকায় ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের সম্ভাবনাও থেকে যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে এই বিশেষ অধিবেশনের মাধ্যমে সমস্ত প্রক্রিয়া মসৃণ ভাবে সম্পন্ন করতে। তাই এই জট কাটাতে বুধবার সরাসরি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজিজু। সূত্রের খবর, মুলতুবি হওয়া লোকসভার মধ্যেই রাহুলের ঘরে গিয়ে আলোচনা করেন মন্ত্রী। কিন্তু সরকারের তরফে সহযোগিতা চাওয়া হলেও তা খারিজ করে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা বলে খবর।
জানা গেছে, চলতি অধিবেশনে সরকার পক্ষ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ডিলিমিটেশন বিল এবং মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল আনতে চাইছে। এই দুটি বিলের ক্ষেত্রেই কংগ্রেসের সহযোগিতা চেয়েছিল সরকার। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেস এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা থেকে দল বদলের ফলে লোকসভায় নতুন শক্তি সঞ্চয় করে সরকার গতবারের আটকে থাকা বিলটি এবার পাশ করানোর আশা করছে। তবে রাহুল গান্ধী জানিয়ে দিয়েছেন শর্ত পূরণ না হলে সংসদে কোনো কাজকর্ম চলতে দেওয়া হবে না।
রাহুলের সঙ্গে বৈঠকের পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করেন কিরণ রিজিজু। ছাত্র বিক্ষোভের ঘটনায় বিরোধী দলগুলি লাগাতার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তার বিবৃতির দাবি জানিয়ে এলেও, সরকারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিক্ষোভের সময় বল প্রয়োগ করা হবে কিনা তা নির্ধারণ করেন ম্যাজিস্ট্রেট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন। অন্যদিকে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির নেতৃত্বে বিরোধীরা রাম মন্দিরের দান চুরি নিয়ে প্রতিকী দানের বাক্স হাতে নিয়ে সংসদের ভেতরে ও বাইরে লাগাতার বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।
২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত একবারও ঠিকমতো প্রশ্নোত্তর পর্ব চালাতে পারেনি লোকসভা। তুমুল হৈ- হট্টগোল ও স্লোগান তোলার মাঝে আলোচনা ছাড়াই পাস হয়েছে পাঁচ পাঁচটি বিল। বুধবার লোকসভা বসার পরেই বিরোধীদের স্লোগান ও হট্টগোলের কারণে সভা মুলতুবি করতে বাধ্য হন স্পিকার। সদস্যদের শান্ত হওয়ার আর্জি জানিয়ে স্পিকার বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে স্লোগান দেওয়া গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়। প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন এবং স্লোগান তুলে আপনারা সংসদের মর্যাদা হানি করছেন। অনেক সদস্যই তাকে জানিয়েছেন যে, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন তালিকায় থাকা সত্ত্বেও বিরোধীদের বাধায় প্রশ্নোত্তর পর্ব চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

