Suvendu, BJP, “রাজ্যে শিল্পের উন্নয়নে বস্ত্রশিল্প‌ই হবে গ্রোথ ইঞ্জিন,” দাবি মুখ্যমন্ত্রীর, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন নির্মলা সীতারমন, লগ্নির আহ্বান শুভেন্দুর

আমাদের ভারত, ৬ আগস্ট: শিল্পে বিনিয়োগে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে রাজ্যকে আবার দেশের আর্থিক ও শিল্প মানচিত্রে শীর্ষ স্থানে ফিরিয়ে আনতে এবার বস্ত্র শিল্পকে অন্যতম গ্রোথ ইঞ্জিন হিসেবে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতায় মিলন মেলা প্রাঙ্গণে বস্ত্র শিল্প প্রদর্শনী সম্মেলনের মঞ্চ থেকে দাবি করলেন বিগত তিন মাসে বদলে গেছে রাজ্যের প্রশাসনিক আবহাওয়া।

সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি থেকে রাজ্যকে মুক্ত করে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সুরাট বিদ্বেষ ও অদূরদর্শী শিল্পনীতির সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বর্তমান বিজেপি পরিচালিত সরকার ডাবল ইঞ্জিনের গতিতে বাংলার অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে দিয়েছে।

মিলন মেলার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদী বলে সম্মোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, গত ৫০ বছরে রাজ্যকে যে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল সেখান থেকে বাংলাকে বের করে আনার জন্য আপনাদের এই প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। তাঁর দাবি, গত তিন মাসে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর নির্মলা সীতারামন থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, সকলে বাংলার শিল্পায়ণে পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠকের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্য সরকারের অপরিকল্পিত ঋণের চাপ এবং ২০১৭ সাল থেকে থমকে থাকা জিএসটি অডিটের পরেও কেন্দ্র রাজ্যকে সাহায্য করে চলেছে।

আগামী ২৪ থেকে ২৮শে আগস্টের মধ্যে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী রাজ্যে আসছেন। বাংলায় বস্ত্র শিল্পপতিদের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠকের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

শিল্পায়ণের গতি বাড়াতে নবান্ন ইতিমধ্যে একাধিক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এখন আর ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শিল্পপতিদের স্থানীয় পৌরসভা ও পঞ্চায়েতে চক্কর কাটতে হবে না। রাজ্য সরকারের বিশেষ সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমের মাধ্যমে যাবতীয় ছাড়পত্র মিলবে তাদের। শীঘ্রই একটি নতুন ভূমি উন্নয়ন নীতি আনা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে বস্ত্র শিল্পের জন্য যাবতীয় নীতি সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। ইতিমধ্যেই লাকস কোজি, আমূল, শ্যাম স্টিল ও অমিত মেটালিকস- এর মত একাধিক বৃহৎ সংস্থার হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ক্যাবিনেট বৈঠকের পর আগামী এক মাসের মধ্যে অন্তত ২৫জন শিল্পপতিকে নতুন জমি হস্তান্তর করা হবে।

মমতা সরকারের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, বস্ত্রশিল্পের জন্য সুরাট থেকে কাঁচামাল আমদানি প্রসঙ্গে আগের মুখ্যমন্ত্রী বলতেন, ও তো বাইরের, কিন্তু সুরাটের লাভ হলেও সেটা আমাদেরই দেশ। আমদানিকৃত কাঁচামাল দিয়ে এখানকার শান্তিপুর, ফুলিয়া বা পূর্বস্থলীর কারিগররা যখন পোশাক তৈরি করছেন তখন ট্রানজিট থেকে শুরু করে সামগ্রিক ভ্যালু চেইনে লাভবান হচ্ছে বাংলার সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *