আমাদের ভারত, ৬ আগস্ট: নিটের প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে তোলপাড় হয়েছে দেশ। সর্বভারতীয় পরীক্ষায় কেলেঙ্কারি নিয়ে জেন- জির তীব্র আন্দোলনে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ইস্তফা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। আন্দোলনে বিদেশী অনুদান বা সরকার বিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের হাত কতটা আছে তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা ও বিতর্ক চলেছে। তবে তারা যে সিস্টেমকে জোর ধাক্কা দিয়েছে তা অনেকেই মেনে নিয়েছেন। এই এতকিছুর মধ্যে বৃহস্পতিবার মুম্বাইতে ছাত্র- ছাত্রীদের মুখোমুখি হন মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, জেন- জিদের আন্দোলন দেশ বিরোধী নয়। তিনি চোখ বন্ধ করে জেন- জিকে বিশ্বাস করেন। তাঁর মতে শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামো এমন হওয়া উচিত যাতে কেউ বঞ্চিত না হন।
দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের প্রধান বলেন, চোখ বন্ধ করেও আমি জেন- জিকে বিশ্বাস করব। একই সঙ্গে তিনি জানান, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত হওয়া দরকার। আর সেই দাবিতে ছাত্র- ছাত্রীদের প্রতিবাদ করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহান ভাগবত বলেন, গণতন্ত্রে প্রতিবাদ হলো সংলাপের একটি স্বীকৃত মাধ্যম। কোনো সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে তা নিয়ে আলোচনা হওয়া দরকার। তরুণদের বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনা প্রয়োজন।
ছাত্র আন্দোলনে লাঠিচার্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কাছে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই। তাই সেই ঘটনাগুলি সঠিক না ভুল তা নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। তবে তিনি বলেন, যদি আমাকে চোখ বন্ধ করে কাউকে বিশ্বাস করতে বলা হয় তাহলে আমি জেন- জিকে বিশ্বাস করব। ওরাই আমাদের আগামী প্রজন্ম।
আজকের তরুণ প্রজন্ম সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, জেন- জিকে কোনো নির্দিষ্ট ছাঁচে ফেলা যায় না। আমার মনে হয় বর্তমান তরুণ প্রজন্ম আমাদের আগের প্রজন্মের তুলনায় আরো বেশি সৎ।
আরএসএস প্রধানের কথায়, গণতন্ত্রে আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যমত গড়ে ওঠে। অভিযোগ যদি প্রকৃত হয় তাহলে তা শোনা উচিত। আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে, তাই সংলাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আমাদের আগের প্রজন্ম সাধারণত কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করত না, কিন্তু জেন- জি বা জেন আলফা প্রশ্ন করে যুক্তি সঙ্গত উত্তর চায়। ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মানের পরিবেশে প্রশ্ন তোলে এরা। তাই এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক ভাবেই দেখা উচিত বলে তাঁর মত।
২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোট। ২৯- এ লোকসভা নির্বাচন। তার আগে জেন-জির মন ছুঁতেই কি মোহন ভাগবতের এই পদক্ষেপ? রাজনৈতিক মহলের একটা অংশ এই প্রশ্ন তোলার সাথে সাথে এই পদক্ষেপকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যপরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ও নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতি ৩ জনে ১ জন জেন-জি। যা ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটে বড় ফ্যাক্টর হয়ে যেতে পারে।

