আমাদের ভারত, ১৫ জুলাই: দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে ডিজে মন্তব্য মামলায় কণ্ঠস্বরের নমুনা দিলেন কালীঘাটের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে তাকে চুড়ান্ত কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, লতা মঙ্গেশকরকেও গান শোনার জন্য এত সাধ্য সাধনা করতে হয়নি কোনদিন। তবে এবার বেড়াল ঠেলায় পড়েছেন। অর্থাৎ হাইকোর্টের চাপে কন্ঠস্বর দিতে বাধ্য হলেন অভিষেক।
সুকান্ত মজুমদার বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এমন ভাবে না করছিলেন কন্ঠস্বর দেওয়ার বিষয়ে, যে লতা মঙ্গেশকরকেও এতবার হয়তো অনুরোধ করতে হতো না দুই এক কলি গান গাইবার জন্য। অভিষেক তো ঘুরে বেড়াচ্ছেন, জানি না উনি লতা মঙ্গেশকরের থেকেও বড় গায়ক কি না? তাঁর কথায়, ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে চড়ে না। এখন ঠেলায় পড়েছেন। দু- দুবার যাননি, তৃতীয়বার হলে হয়তো আদালত বলবে কান ধরে ছেলেটিকে তুলে নিয়ে আসো। সেই ভয়ে ঠেলায় পড়েই গেছেন।
কলকাতা হাইকোর্টের করা পর্যবেক্ষণ ও রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের হুঁশিয়ারির পর বুধবার বিধান নগর আদালতে হাজির হয়ে ভয়েস স্যাম্পেল দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার সকালে কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে বিধান নগর আদালতে পৌঁছান। আদালতের নির্দেশ মেনে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেন। এর আগে ৩০ জুন ও ৮ জুলাই দু’বার কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার জন্য ডাকা হলেও হাজির হননি তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে।
গত ১০ জুলাই শুনানিতে বিচারপতি মন্তব্য করেন, সবকিছুর একটা সীমা আছে। বিচারক একটা নির্দেশ জারি করেছেন, সেটা মানতেই হবে। পাশাপাশি স্পষ্ট করে দেন, তদন্তে সহযোগিতা না করলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া আইনের রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের আবেদন বিবেচনা করা হতে পারে। এমনকি দৃষ্টান্তমূলক আর্থিক জরিমানার ইঙ্গিত দেন আদালত। হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করে জানায় তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন, এই শর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ অমান্য করা হলে আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। এই আবহে বুধবার আদালতে হাজির হয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

