Rath, Angarpukuria, বনগাঁর আঙ্গারপুকুরিয়ায় পুরীর আদলে রথযাত্রা, ভক্তদের ঢল জগন্নাথ দেবের দর্শনে

আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ১৫ জুলাই: আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে সারা দেশের সঙ্গে বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানার আঙ্গারপুকুরিয়া এলাকাতেও পুরীর আদলে মহাসমারোহে পালিত হচ্ছে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব। ভোর থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের ঢল নামে। গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এই ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিয়ে রথ টানার পাশাপাশি জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার দর্শন করেন।
এদিন বনগাঁ শহর পরিক্রমা করে মাসির বাড়ি যাবে এই রথ।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে রথযাত্রার বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই শুভ তিথিতে জগন্নাথ দেবের দর্শন করলে জীবনের নানা দুঃখ- কষ্ট ও বাধা- বিপত্তি দূর হয় এবং সংসারে সুখ- শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। সেই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই প্রতিবছর দূর- দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত আঙ্গারপুকুরিয়ার এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রায় যোগ দেন।

মন্দিরের সেবক সুধীরচন্দ্র বাওয়ালী জানান, “এই পবিত্র তিথিতে নির্দিষ্ট কিছু শুভ জিনিস বাড়িতে নিয়ে গেলে জীবনে মঙ্গল ও সমৃদ্ধি আসে বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। সেই আশাতেই বহু মানুষ জগন্নাথদেবের আশীর্বাদ নিতে এখানে আসেন।”

ধর্মীয় আচার অনুযায়ী, স্নানযাত্রার পর পক্ষকাল ‘অনসর’ পর্বে রাজবৈদ্যের সেবা- শুশ্রূষায় সুস্থ হয়ে পুনর্যৌবন উৎসবের পর জগন্নাথ দেব মাসির বাড়ির উদ্দেশে রথে যাত্রা করেন।

মন্দিরের অপর সেবক সুশান্ত বাওয়ালী বলেন, “রথযাত্রার দিন গ্রামের বহু নারী একই রঙের শাড়ি এবং পুরুষরা একই রঙের পোশাক পরে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রাকে রথে বসিয়ে মাসির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক সপ্তাহ অবস্থানের পর উল্টো রথের দিন তাঁরা পুনরায় নিজ মন্দিরে ফিরে আসেন।”

ওড়িশার পুরীর মতোই এই রথযাত্রাকে ঘিরে আঙ্গারপুকুরিয়াতেও উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। বিকেলে এলাকার ছোট ছোট ছেলে- মেয়েরাও নিজেদের ছোট রথে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার প্রতিমা বসিয়ে পাড়া পরিক্রমা করে। ধর্মীয় আচার, ভক্তি, উৎসব এবং লোক ঐতিহ্যের অনন্য মেলবন্ধনে দিনভর মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *