আমাদের ভারত, ২০ মে: রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর স্কুলে চাকরি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় শুক্রবার জানিয়েছেন, অবিলম্বে অঙ্কিতার চাকরি বাতিল ঘোষণা করতে হবে। একই সঙ্গে গত ৪১ মাস ধরে অঙ্কিতা অধিকারী যে বেতন পেয়েছেন সেটা দুটি কিস্তিতে ফেরত দিতে হবে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই টাকা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা থাকবে।
মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য সহকারি শিক্ষিকা পদে চাকরি পেয়েছিলেন। এই মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, গোটা বিষয়টি শুনে মনে হচ্ছে অঙ্কিতা অধিকারীর মাথায় বেশকিছু ক্ষমতাশালী ব্যক্তির অদৃশ্য হাত ছিল। এখানে দুর্নীতি হয়েছে মনে হচ্ছে, নইলে এভাবে একজন প্রার্থীকে মেধাতালিকায় আমদানি করে তাকে প্রথম স্থানে বসানো যায় না।
একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য স্টেট লেভেল সিলেকশন টেস্টে পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা পেয়েছিলেন ৬১ নম্বর। আর মামলাকারী ববিতা সরকার পেয়েছিলেন ৭৭ নম্বর। বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেছিলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নম্বরের এই ফারাক অনেকটাই বেশি। এছাড়াও ববিতা পার্সোনালিটি টেস্ট দিয়ে ৮ নম্বর পেয়েছিলেন কিন্তু অঙ্কিতা পার্সোনালিটি টেস্টে বসেননি। ফলে এর থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে অঙ্কিতাকে মেধাতালিকায় আমদানি করা হয়েছিল। এই অনিয়মের পেছনে অবধারিত কেউ রয়েছেন। হাইকোর্টের নির্দেশে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই।

