স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২০ মে: আত্মহত্যার হাত থেকে বাঁচিয়ে সবার মন জিতে নায়কের ভূমিকায় পুলিশ। পরপর তিন কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় তিন কন্যা সহ স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দিল স্বামী। গাংনাপুর থানার ঘটনা।

পুলিশ সুত্রে খবর, গাংনাপুর উওর চাকুরিয়া এলাকার বাসিন্দা বছর ২৪ এর স্বপ্না সর্দার তিন কন্যাকে নিয়ে গাংনাপুর রেল স্টেশনে বসেছিল। মানুষের নজরে আসে তিন বাচ্চা নিয়ে এক মহিলা স্টেশনে বসে আছে। এত রাতে কি করছে জিজ্ঞাসা করতেই কান্নাকাটি করে ঐ মহিলা জানায়, আমি বাড়ি ফিরব না। আমি আমার তিন কন্যা নিয়ে মরতে চাই।
পুলিশ সুত্রে খবর, স্বপ্না সর্দার পর পর তিন কন্যা সন্তানের জন্ম দেওয়ায় স্বপ্নার উপর অকথ্য অত্যাচার চলতো। গত এগারো দিন আগে দুই কন্যা সন্তানের পর আবারও একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয় স্বপ্না। এর পরই হাসপাতাল থেকে কন্যা সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরে এলেই অশান্তি চরমে উঠে। স্বপ্না সর্দারকে তিন কন্যা সহ বাড়ি থেকে বের করে দেয় স্বামী। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির গঞ্জনা, অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার জন্য রেল স্টেশনকেই বেছে নেয় স্বপ্না। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে গাংনাপুর থানার কর্তব্যরত অফিসার মানাউল্লা শেখ সেখানে এসে উপস্থিত হন। এরপর মানাউল্লাবাবু গাংনাপুর স্টেশন থেকে ওই মহিলাসহ ৩ কন্যাকে উদ্ধার করে বুঝিয়ে তার স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে আসেন।

মানাউল্লাবাবু জানান, ছেলে বা মেয়ে চাইলেই পাওয়া যায় না। এটা ঈশ্বরের দান। আমরা কখনোই তা অস্বীকার করতে পারি না। এটা মানুষদের বোঝা উচিত। আর যেখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কন্যা জন্মালে কন্যাশ্রী রূপশ্রী দিয়ে পরিবারকে সাহায্য করছে সেখানে কেন এখনও কন্যা সন্তানে অবহেলা? পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার মানুষ।

