আশিস মণ্ডল, বীরভূম, ৭ নভেম্বর: এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃতদেহের পাশেই রয়েছে বিশালাকার অজগরের বা পাইথনের মৃতদেহ। রবিবার তিলপাড়া জলাধারে এমনই দুটি মৃতদেহ ভাসতে দেখে চাঞ্চল্য এলাকায়। খবর পেয়ে মহম্মদ বাজার থানার পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে। দুটি মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধন্দে পুলিশ।

এদিন বেলার দিকে স্থানীয় মানুষ তিলপাড়া জলাধারের মহম্মদবাজারের দিকে সেচ ক্যানেলের গায়ে মৃতদেহ দুটি ভাসতে দেখেন। অজ্ঞাত পরিচয়ে ব্যক্তির মৃতদেহের পাশেই পূর্ণ বয়স্ক অজগর বা পাইথনের মৃতদেহ ভাসতে দেখা যায়। দুটি দেহ একসঙ্গে ভাসতে দেখে এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পরে। ভিড় জমতে থাকে মহম্মদবাজারের দিকে সেচ ক্যানেলের পাড়ে। দেহ দুটি ভেসে এসে গেটে আটকে ছিল। কিন্তু কিভাবে দুটি দেহ এক সঙ্গে এল তাই নিয়ে সাধারণের মধ্যে কৌতুহল তৈরি হয়। কেউ দাবি করে, অজগরের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির। তাকে পেঁচিয়ে মেরে ফেলেছে অজগর। একইসঙ্গে কেউ বলেন, বিষাক্ত মৃতদেহটিকে কেউ জলে ভাসিয়ে দিয়েছে। সেই দেহ খেতে গিয়ে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে অজগরের। আবার কেউ কেউ মানুষ ও অজগরের লড়াইয়ে দু’জনের মৃত্যুর গল্প ফাঁদছে।

যদিও সর্প বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় বন্যপ্রাণ অপরাধ শাখার সদস্য দীনবন্ধু বিশ্বাস বলেন, জলে নেমে ওই পূর্ণবয়স্ক অজগরের সঙ্গে লড়াই করা ভেসে আসা ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া ওই ব্যক্তি যদি অজগরকে মেরে ফেলে তাহলে তার মৃত্যু হল কেন। আর অজগর যদি পেঁচিয়ে তাকে মেরে ফেলে তাহলে সাপটি মরল কেন। দীনবন্ধুবাবুর বিশ্বাস দুটি পৃথক মৃতদেহ ভেসে একসঙ্গে এক জায়গায় এসে আটকেছে। যা থেকে নানান গুজব তৈরি হচ্ছে।

মহম্মদবাজার থানার পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিউড়ি সদরে পাঠিয়েছে।

