আমাদের ভারত, ২০ মে: হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করা নিয়ে তরজা কোনো নতুন বিষয় নয়। ইদানিং একাধিক বিজেপির নেতাও বলেছেন দেশের বেশিরভাগ রাজ্যে হিন্দি প্রচলিত ভাষা, তাই সরকারি যে কোনো কাজ কর্মে হিন্দিকে গুরুত্ব দেওয়া হোক। কিন্তু এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে দক্ষিণের রাজ্যগুলি। নিজেদের মাতৃভাষা নিয়ে তারা চিরকাল যথেষ্ট স্বাভিমানি। তারা মাতৃভাষায় উপেক্ষা করে হিন্দিকে মেনে নিত নারাজ। এর মধ্যে আবার অমিত শাহ বলেছেন, ইংরেজির বিকল্প হিসেবে হিন্দিকেই ভারতবাসীর গ্রহণ করা উচিত। আর তারপরেই ফের বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিন্তু শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বললেন অন্য কথা। ভার্চুয়ালি বিজেপির জাতীয় বৈঠকে যোগ দিয়ে মোদী বলেন, বিজেপি দেশের সব আঞ্চলিক ভাষাকেই সম্মান করে।
শুক্রবার রাজস্থানের জয়পুরে বিজেপির জাতীয় বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি সেখানে যেমন বিজেপির একাধিক জনহিতকর প্রকল্প নিয়ে কথা বলেন, তেমনি দেশের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়েও কথা বলেন। বিজেপির এই বৈঠকে মোদী বলেন, বিজেপিই ভারতের বৈচিত্রময় সংস্কৃতি ও বিবিধ ভাষাকে প্রথমবারের জন্য রাষ্ট্রের স্বাভিমানের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে। নয়া শিক্ষানীতিতে স্থানীয় ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নয়া শিক্ষানীতিতে স্থানীয় ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমেই প্রতিটি ভাষার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন স্পষ্ট হয়েছে। বিজেপি সকল ভাষাকে ভারতের আত্মা বলে মনে করে।
ভাষা নিয়ে কথা বলার কারণ জানতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি এই বিষয়ে বলছি কারণ বিগত কয়েকদিন ধরে দেশে ভাষা নিয়ে নতুন করে বিবাদ তৈরি করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে দেশবাসীকে আমাদের সবসময় সতর্ক করতে হবে। বিজেপি ভারতের প্রতিটি ভাষায় ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতিফলন দেখে প্রত্যেকটি ভাষাকে প্রণম্য মনে করে।”
সম্প্রতি এক ভাষা এক দেশ নিয়ে কথা বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যেহেতু হিন্দি দেশের বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী ভাষা। তাই ইংরেজির পরিবর্তে হিন্দিকে গ্রহণ করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। আর হিন্দিকে বিকল্প ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সহমত পোষণ করেন বিরোধী দল শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউতও।

